কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্ট মার্টিন দ্বীপের সৈকতে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুই নারীর মরদেহ। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে শাহপরীর দ্বীপের ঘোলাপাড়া সৈকতে একটি এবং দুপুরে সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম সৈকতে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ দুটি বিকৃত হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় কোনো ট্রলারডুবির ঘটনায় অথবা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে শাহপরীর দ্বীপে আসার পথে বদরমোকাম চ্যানেলে নৌকাডুবির ঘটনায় এসব মরদেহ ভেসে আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিন ধরে বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে।
শাহপরীর দ্বীপে মরদেহ উদ্ধার
শাহপরীর দ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সনজীব বলেন, রাত পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পরনের পোশাক দেখে মরদেহটি রোহিঙ্গা নারীর হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সেন্ট মার্টিনে আরেক মরদেহ
এদিকে একই দিন দুপুরে সেন্ট মার্টিনের পশ্চিম সৈকত এলাকায় জোয়ারের পানিতে ভেসে আসা আরেকটি অর্ধগলিত নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, মরদেহটি দীর্ঘ সময় সাগরের পানিতে থাকায় পচে গেছে। মাথাও বিচ্ছিন্ন ছিল। এ কারণে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় পাঁচ দিন ধরে টেকনাফের সঙ্গে সেন্ট মার্টিনের নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
মরদেহ দাফন
সেন্ট মার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ওসমান গনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে মরদেহটি নৌপথে টেকনাফ বা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে স্থানীয় কবরস্থানে মরদেহটি দাফন করা হয়েছে।



