মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপকারভোগীদের হাজার হাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দীর্ঘ ৭ বছরেও কার্ডগুলি সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছায়নি। এতে বিভিন্ন মহলে চরম ক্ষোভ ও নানা সমালোচনা চলছে।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে হাসপাতাল আগত রোগীদের স্বজনরা তালাবদ্ধ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের বারান্দায় একটি ভরা বস্তা ফেলে রাখা দেখতে পান। এগিয়ে গিয়ে তারা দেখতে পান ভিন্ন ভিন্ন নারী-পুরুষের নাম-ঠিকানা লেখা লেমিনেটেড স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ডে ভর্তি বস্তাটি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এতে অন্তত ২০ হাজার উপকারভোগীর কার্ড রয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলেন সরকারের লাখ লাখ টাকায় তৈরী স্বাস্থ্য কার্ডগুলো কার অবহেলায় উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছেনি এবং উপকারভোগীরা সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হল কিনা, তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা।
কার্ডের বিবরণ ও উদ্দেশ্য
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন পদ্ধতি গ্রহণকারী নারী ও পুরুষের সরকারি ভাতা ও সুযোগ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর নাম ঠিকানা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্বলিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্ড তৈরি করে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসে পাঠিয়ে দেয়। মাঠকর্মীরা কার্ডগুলো উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার কথা। ওই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীদের বিভিন্ন মেয়াদে সরকারিভাবে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।
কিন্তু সরকারি লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে অধিদপ্তরের তৈরি ও পাঠানো হাজার হাজার স্বাস্থ্য কার্ড উপকারভোগীদের হাতে না পৌঁছে বছরের পর বছর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের স্টোররুমে বস্তাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এতে ভেস্তে গেছে সরকারের আসল উদ্দেশ্য।
কর্মকর্তার বক্তব্য
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সীমা সিদ্দিকা জানান, তিনি ২০২৪ সালে এখানে যোগদান করেন। যোগদানের পরই স্টোরে পূর্ব থেকে সংরক্ষিত এই কার্ডগুলি দেখতে পান। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সেবাগ্রহীতার তথ্য রেজিস্টার খাতায় বারবার লিপিবদ্ধ যাতে করতে না হয় এবং ট্যাবের মাধ্যমে যাতে সহজে তথ্য সংরক্ষণ করা যায় সে উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য কার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কার্ডগুলো ত্রুটিপূর্ণ থাকায় সেসময় বিতরণ করা হয়নি।
আসন্ন বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালনের প্রস্তুতিকালে মঙ্গলবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সময় এই কার্ডগুলো বারান্দায় সাময়িক সময়ের জন্য রাখা হয়। রাতেই তা স্টোররুমে সংরক্ষণ করে রাখেন।
তদন্তের দাবি
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় ও দায়িত্বে অবহেলার। পর্যবেক্ষণে দেখা যায় কার্ডগুলো প্রদানের তারিখের স্থানে কোনোটি ২০১৩ ও কোনোটি ২০১৯ সালের উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।



