ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলেছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক (পরকীয়া) প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করতে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের ‘গোপনীয়তার অধিকার’ ব্যবহার করা যাবে না। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই অধিকার সীমাহীন নয় এবং জনস্বার্থ বা ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজন হলে এর ওপর যৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে।
মামলার পটভূমি
মামলাটি একটি দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত। ১৯৯৮ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং ২০০০ সালে তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করে। এরপর স্ত্রী অভিযোগ করেন, তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে জয়পুরের একটি হোটেলে অবস্থান করেছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বিবাহবিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন এবং স্বামীর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও হোটেলে থাকার তথ্য আদালতে চেয়ে আবেদন জানান।
আদালতের রায়
স্বামী দাবি করেছিলেন, তার মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড এবং হোটেলে থাকার তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা তার মৌলিক গোপনীয়তার অধিকারের লঙ্ঘন। তবে সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত উল্লেখ করে, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী পরকীয়া বিবাহবিচ্ছেদের বৈধ কারণ। তাই পরকীয়া প্রমাণে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে গোপনীয়তার অধিকারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
গোপনীয়তার অধিকারের সীমাবদ্ধতা
সুপ্রিম কোর্টের মতে, সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় গোপনীয়তার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার হলেও তা সীমাহীন নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থ রক্ষার স্বার্থে এই অধিকারের ওপর যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। এই মামলায় আদালত বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় ন্যায়বিচারের স্বার্থকে গোপনীয়তার অধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
মামলার ফলাফল
পারিবারিক আদালত এবং দিল্লি হাইকোর্ট আগেই স্ত্রীর আবেদন মঞ্জুর করে স্বামীর কল রেকর্ড ও হোটেলে থাকার তথ্য চেয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেই রায় বহাল রাখায় এখন স্বামীর কল রেকর্ড ও হোটেলের তথ্য আদালতে জমা দিতে হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রায় বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় তথ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।



