ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, স্বামী বা স্ত্রীর ফোন কল রেকর্ড এবং হোটেল বিল পরকীয়ার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই রায় ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের পর আরও একটি বড় পদক্ষেপ, যেখানে পরকীয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল।
মামলার বিবরণ
মামলাটি রাজস্থানের জয়পুরের এক নারীর। তিনি ২০২২ সালে স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ আনেন। তার দাবি, স্বামীর কল রেকর্ড ও হোটেল বিল দেখলেই পরকীয়া প্রমাণিত হবে। প্রথমে তিনি পারিবারিক আদালতে বিচ্ছেদের মামলা করেন এবং সাক্ষ্য হিসেবে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ চান। কিন্তু মামলা দায়েরের আগেই ফুটেজ মুছে যায়। পরে তিনি আদালতের মাধ্যমে স্বামীর কল রেকর্ড ও হোটেল বিলের তথ্য চান। পারিবারিক আদালত অভিযুক্তের কল রেকর্ড ও হোটেল বিল সিল করা খামে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
স্বামীর আপত্তি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
অভিযুক্ত স্বামী যুক্তি দেন, এই তথ্য প্রকাশ তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শীর্ষ মনমোহন ও বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রন এই যুক্তি নাকচ করে দেন। তারা বলেন, ফোন কল রেকর্ড ও হোটেল বিল পরকীয়া প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। এর আগে দিল্লি হাই কোর্ট বলেছিল, ওই নারী শুধু নিজের অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করছেন, তাই তথ্য জমা দেওয়ায় আপত্তি নেই। সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণে সায় দেয়।
আইনি প্রভাব
এই রায় বিবাহবিচ্ছেদ ও পারিবারিক নির্যাতনের মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের পথ সুগম করবে। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্ট পরকীয়াকে অপরাধের আওতা থেকে বাদ দিলেও, তা বিবাহবিচ্ছেদের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। এখন কল রেকর্ড ও হোটেল বিলের মতো ডিজিটাল প্রমাণ গুরুত্ব পাবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও প্রমাণের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।



