পুলিশে সুপারনিউমারারি কর্মকর্তাদের হতাশা, দীর্ঘদিন বৈষম্যের শিকার
পুলিশে সুপারনিউমারারি কর্মকর্তাদের হতাশা ও বৈষম্য

বাংলাদেশ পুলিশে সুপারনিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত) পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব কর্মকর্তাকে সরকারবিরোধী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। পরে তাদেরকে পদোন্নতি না দিয়ে খুশি করার জন্য ১৪০ জন এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে সুপারনিউমারারি (সংখ্যাতিরিক্ত) এডিশনাল ডিআইজি করা হয়।

পদোন্নতি হলেও দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব নেই

সুপারনিউমারারি এডিশনাল ডিআইজি হলেও সবাই পূর্বের পদে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পদমর্যাদা বেড়েছে, কিন্তু দায়িত্ব, কর্তৃত্ব ও কর্মপরিধি আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে। এতে পুলিশ প্রশাসনে জটিলতার পাশাপাশি পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৬ নভেম্বর তত্কালীন সরকারের সময়ে ১৪০ জন পুলিশ সুপারকে সুপারনিউমারারি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত শূন্য পদ না থাকায় তাদের সবাই নিজ নিজ আগের দায়িত্বে বহাল থাকেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিয়মিত পদায়নে অগ্রগতি সীমিত

এর মধ্যে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১২ জনকে সুপারনিউমারারি এডিশনাল ডিআইজি থেকে নিয়মিত এডিশনাল ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়। এই তালিকায় জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে বর্তমান র‌্যাব প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীবের নাম ১ নম্বরে ছিল।

পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি পদে থাকা ১৭ কর্মকর্তাকে নিয়মিত অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদায়ন করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মকর্তাদের বক্তব্য

পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটের ব্যাটালিয়ন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী একজন সুপারনিউমারারি এডিশনাল ডিআইজি বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাদেরকে সরকারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করে পদোন্নতি না দিয়ে সুপারনিউমারারি হিসেবে পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে আমরা সুপারনিউমারারি থেকে বের হতে পারিনি।”

পুলিশ সদর দপ্তরের বিভিন্ন শাখায় দায়িত্ব পালন করা একাধিক সুপারনিউমারারি কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সুপারনিউমারারি পদে পদোন্নতি পাওয়া শতাধিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন মানসিক ও প্রশাসনিকভাবে বৈষম্যের শিকার। অনেকের ব্যক্তিগত নথিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও যুক্ত করা হয়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পদায়নের প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা প্রতিফলিত হয়নি।”