পাবনার সাঁথিয়ার আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কাশেম নামে এক যুবকের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন বৃহস্পতিবার সাঁথিয়া উপজেলার আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৩) স্কুল ছুটি হলে বাড়ি যাচ্ছিল। আড়িয়াডাঙ্গী বাজারের মুদি দোকানি, আড়িয়াডাঙ্গী গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের ছেলে আবুল কাশেম ওই ছাত্রীকে একটি দোকানে নিয়ে শ্লীলতাহানি করে। ছাত্রী বাড়ি গিয়ে তার মাকে ঘটনা বললে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার আতাইকুলা থানায় মামলা দায়ের করেন।
দুই দিন ছুটির পর রোববার স্কুল খুললে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী কাশেমের বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেন। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা আড়িয়াডাঙ্গী বাজারে কাশেমের মুদি দোকান ও বাচ্চুর চায়ের দোকান ভাঙচুর করে। পরে কাশেমের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়াও কাশেমের ভাই মাসুদ, সাদ্দামের বাড়ি ও প্রতিবেশী সজীবের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে কাশেমের আত্মীয় শাকিলের মাইক্রোবাস ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। সর্বশেষ আতাইকুলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
আড়িয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আফাজুল বলেন, ছাত্রীর শ্লীলতাহানির বিচার চেয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছেন। সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। আতাইকুলা থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করেন। আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রোববার সকালে ভাঙচুরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।



