টাকার বিনিময়ে কৃষক লীগ নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার
টাকার বিনিময়ে কৃষক লীগ নেতা ছাড়ার অভিযোগে এসআই প্রত্যাহার

গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুল হাসানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। কোনাবাড়ী থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের এক নেতাকে আটকের পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) সহকারী কমিশনার (কোনাবাড়ী জোন) আবু নাসের আল-আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে রবিবার (৫ জুলাই) বিকালে তাকে জিএমপি সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়।

অভিযুক্ত এসআই কামরুল হাসান জিএমপির কোনাবাড়ী থানায় দায়িত্ব পালন করতেন। আটক মতিন মিয়া গাজীপুর মহানগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ড কোনাবাড়ী (প্রতাবপুর) এলাকার কৃষক লীগের সভাপতি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আটক ও মুক্তির অভিযোগ

স্থানীয়রা জানান, গত ২২ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত এসআই কামরুল হাসানসহ চার পুলিশ সদস্য প্রতাবপুর এলাকায় অভিযান চালান। অভিযানে কৃষক লীগ নেতা মতিন মিয়াকে আটক করা হয়। ওই রাতেই মতিনের পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠে এসআই কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। পরদিন ২৩ জুন সকাল থেকেই মতিন মিয়া আত্মগোপনে চলে যান। আটকের সময় পুলিশকে বাড়ি দেখিয়ে দেওয়ায় কৃষক লীগ নেতার পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মুদি দোকানি নূর মোহাম্মকে হুমকি দেয়। ওই ঘটনায় মুদি দোকানি থানায় অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন (২২ জুন) রাতে প্রতাবপুর এলাকার নিজের মুদি দোকানে বসে বেচাকেনা করছিলেন। সে সময় কোনাবাড়ী থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার দোকানে এসে কৃষক লীগ নেতা মতিনের বাড়ির অবস্থান জিজ্ঞাসা করেন। ওই দিন রাতেই পুলিশ মতিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে যায়। পরদিন ওই নেতার ভাই আলম মুদি দোকানিকে তার দোকানে গিয়ে অশোভন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং হত্যার হুমকি দেন।

মুদি দোকানির বক্তব্য

মুদি দোকানি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘পুলিশ এসে কৃষকলীগ নেতা মতিনের বাড়ি কোন দিকে জানতে চাইলে আমি তাদেরকে দেখিয়ে দিই। পরে পুলিশ বাড়ি থেকে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। শুনেছি, ওই রাতেই দুই লাখ টাকা নিয়ে মতিনকে ছেড়ে দিয়েছে।’

পুলিশের ব্যবস্থা

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি আমলে নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। জিএমপির সহকারী কমিশনার (কোনাবাড়ী জোন) আবু নাসের আল-আমিন বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত এসআই কামরুল হাসানকে কোনাবাড়ী থানা থেকে প্রত্যাহার করে জিএমপি সদর দফতরে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে বিভাগীয় ও আইনগত বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’