পিরোজপুরের জিয়ানগরে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৫ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের চর-গাজীপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত সুমাইয়া আক্তার (১৩) বারইখালী সপ্তগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং চর-গাজীপুর গ্রামের মো. মামুন শেখের মেয়ে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়ার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সালমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের কিছু ব্যক্তিগত ছবি স্থানীয় সিয়াম নামের এক যুবকের মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সিয়াম ওই ছবিগুলো রিয়াজ নামের আরেক যুবককে দেখায় এবং পরবর্তীতে রিয়াজ সবাইকে জানিয়ে দেয়।
সংঘর্ষ ও সামাজিক চাপ
এ ঘটনায় সিয়াম ও রিয়াজসহ কয়েকজন যুবকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সুমাইয়া ও তার পরিবার সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
আত্মহত্যার কারণ
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সুমাইয়ার বাবা তাকে বকাঝকা করেন। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। একপর্যায়ে ঘরে থাকা উকুননাশক ওষুধ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে স্বজনরা তাকে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের বক্তব্য
মৃতের বাবা মো. মামুন শেখ বলেন, মেয়েকে একটি বিষয়ে নিষেধ করার পর সে অভিমান করে বিষাক্ত ওষুধ পান করে।
তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা
এ বিষয়ে সিয়াম ও রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জিয়ানগর থানার ওসি মোহাম্মদ মহাব্বাত খান বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



