অন্তর্বর্তী সরকারের আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, “আমি সরকারকে শুরু থেকে একটা কথা বলছি, আইন-শৃঙ্খলা ও অর্থনীতি— এই দুই জায়গায় যদি দৃশ্যমান অগ্রগতি না হয়, তাহলে এই সরকারের পরিণতি সত্যিকার অর্থেই দুঃখজনক হবে।”
নিজ এলাকায় উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকালে তার নিজ নির্বাচনি এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের ঘাগড়াজোর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ এলাকার চলমান সার্বিক উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন বাজেট নিয়ে প্রশ্ন
নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, “এই মাসে একটা বাজেট দেখলেন, আমাদের নতুন অর্থবছরের একটি বাজেট দেয়া হয়েছে। সে বাজেটের বিশ্লেষণ করে আমি সংসদেও কথা বলেছি। কতটুকু বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট সেটিই এখন একটি বড় প্রশ্ন।”
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
দেশের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে নাজুক অবস্থা, এতটা নাজুক অবস্থা নিকট অতীতে ছিল না। সেসব দিক বিবেচনায় মনে হয় সরকারের দুটি মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে ৫০ শতাংশ দায়িত্ব— অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্যসব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে যতটুকু আগ্রহ, উৎসাহ এবং অতি তৎপরতা দেখাচ্ছেন, এই অতি তৎপরতা যদি তিনি নিজের মন্ত্রণালয়ে দেখাতেন, তাহলে দেশবাসী উপকৃত হতো।”
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ
নিজ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, “তারা ‘শোন অ্যারেস্ট’ (গ্রেফতার দেখানো)-এর কালচার শুরু করেছে। একটা মামলায় জামিন নিলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা মামলা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এলাকায়-এলাকায় বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা মামলার ব্যবসা করছে। এটি আমি সংসদেও বলেছি।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে সতর্কবার্তা
তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি সরকারকে বলবো এবং অতিজ্ঞানী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলবো— বিষয়টি আপনি দেখবেন। কারণ মনে রাখবেন, আজকে আপনি যা করছেন, তার জন্য আপনাকে একদিন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।”
গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন
এর আগে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাইল থেকে প্রত্যন্ত এলাকা চুন্টায় যাওয়ার পথে বিভিন্ন গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। এসময় তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের নানা সমস্যার খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনের সময় তার সমর্থিত রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



