রাজশাহীতে অনলাইন প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুট ১৫ লাখ টাকা
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা কলেজ মোড়ে অবস্থিত অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ম্যাংগো লাভার’-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন এবং ১৫ লাখ টাকা লুট হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা শুরু হয়।
ঘটনার পটভূমি ও হামলার বিবরণ
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি একটি ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী আশিকের সঙ্গে তার বড় ভাই রাসেলের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য সেখানে যান প্রতিবেশী মাসুদ পারভেজ শুভ, যিনি রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর।
হামলায় প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী সাকিব (২৪) ও তানিম (২৮) আহত হন। তাদের বাড়ি পবা উপজেলার বায়া এলাকায়। রাতেই তাদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের অবস্থা
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, “আহত সাকিবের বাঁ হাঁটুতে ফোলা রয়েছে এবং তিনি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন। তানিমের মুখের বাঁ পাশে ফোলা ও মাথায় হালকা আঘাত রয়েছে। তিনি ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। দুই জনের কারও আঘাত গুরুতর নয় এবং তারা শঙ্কামুক্ত। দ্রুতই তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।”
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তানিম জানান, “অফিস ছুটির সময় আমি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন দৌড়ে এসে আমাকে ধরে ফেলে। তাদের হাতে লাঠি, চাকুসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল। হামলাকারীরা জোরপূর্বক ভবনের ওপরে উঠে যায়। বাধা দিতে গেলে সিঁড়িতেই আমাকে মারধর করা হয়। পরে তারা অফিসে ঢুকে কম্পিউটার, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন জিনিস ভাঙচুর করে। মারধরের একপর্যায়ে আমি অচেতন হয়ে পড়ি।”
ভবনের নৈশপ্রহরী কাজী হাতেম (৩২) বলেন, “ঘটনার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন ভবনের ওপরে উঠে হামলা ও মারধর চালায়। তাদের মধ্যে আমি মাসুদ পারভেজ শুভকেও দেখেছি।”
প্রতিষ্ঠানের মালিকের অভিযোগ
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ম্যাংগো লাভারের স্বত্বাধিকারী মুরাদ পারভেজ অভিযোগ করেন, “হামলাকারীরা আমার প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ বাক্স থেকে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার আসবাব নষ্ট করা হয়েছে। ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলাকারী কার্যালয়ে উঠে তাণ্ডব চালায় এবং আমার দুই কর্মচারীকে গুরুতর আহত করে। প্রাণ বাঁচাতে আমি নিজে সরে গিয়ে আত্মরক্ষা করি।”
মুরাদ পারভেজ আরও জানান, “হামলাকারীদের ধস্তাধস্তির সময় আমার ব্যবহৃত তিনটি ল্যাপটপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাবেক ছাত্রদল নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর মাসুদ পারভেজ শুভ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এসব কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন।” তিনি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এজাহারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করবেন বলে জানান।
মাসুদ পারভেজের বক্তব্য
অভিযোগ অস্বীকার করে মাসুদ পারভেজ শুভ বলেন, “কলেজ মোড় এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন পুনরায় জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। ভবনের নিচের গেটে অবস্থান করে লোকজনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। আমি কাউকে ওপরে উঠতে দেইনি এবং নিজেও ওপরে যাইনি। ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করলেই আমার বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যাবে।”
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত
পবা থানার টহল দলের উপপরিদর্শক (এসআই) আসিব নাসিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, “সেখানে দুটি ল্যাপটপ তারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। একটি টি-টেবিল ভেঙে যাওয়ায় কাচের টুকরা ছড়িয়ে ছিল। আমার প্রাথমিক ধারণা, ধস্তাধস্তি ও মারামারির সময় এসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর চালানোর উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে বলে তাৎক্ষণিকভাবে আমার মনে হয়নি।”
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভবনের মালিক জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষিত হয়নি।



