রাজধানীর আদাবর এলাকায় বিএনপি নেতা আবুল বাশার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি পারভেজকে (৩০) আজ রোববার (৫ জুলাই) গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব ২–এর একটি দল ভোর পাঁচটার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার বিবরণ ও হামলার পদ্ধতি
র্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৯ জুন নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার মজনু ও শহীদ গ্রুপের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে ১ জুলাই সন্ধ্যায় দুই পক্ষ সালিসে বসলেও সমাধান না হওয়ায় সংঘর্ষ বাধে। এ সময় আবুল বাশার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে পারভেজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে ও সাদ্দাম হোসেনকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। আহত দুজনকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আবুল বাশারের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
পূর্ববর্তী গ্রেপ্তার ও স্বীকারোক্তি
ঘটনার পর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে ৩ জুলাই জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ থেকে মামলার দুই আসামি সুমন (২৫) ও শহীদকে (৫৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা র্যাবের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে পারভেজ বাদশাকে ছুরিকাঘাত করেছেন বলে স্বীকার করেন। আহত সাদ্দাম হোসেনও একই অভিযোগ করেন। র্যাবের দাবি, পারভেজের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর থানায় বেআইনি সমাবেশ, মারধর, চুরি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
আরও গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি
এ মামলায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সাহেবনগর এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আসামি নিরব, রিপন, মজনু মিয়া ও মিজানকে গ্রেপ্তার করে। ২ ও ৩ জুলাই আদাবরের নবোদয় হাউজিং থেকে শোয়েব, আরমান ও নয়নকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপি। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।



