মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার পশ্চিম রাজদিয়া গ্রামে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লাবনী আক্তারকে (৩০) মারধর ও ঘরে আটকে রাখার ঘটনায় স্বামী আল-আমিনকে (৩২) ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার হন লাবনী।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আল-আমিন মাদক সেবন করে প্রায়ই স্ত্রী লাবনীকে মারধর করতেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি লাবনীকে মারধর করে ঘরে আটকে রাখেন এবং তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। বুধবার সকালে পাশের বাড়ির এক নারীর মুঠোফোন থেকে লাবনী ৯৯৯-এ ফোন করেন।
খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাবনীকে উদ্ধার করে। এ সময় আল-আমিনের কাছ থেকে এক পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়
সিনথিয়া হোসেন বলেন, 'আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। মাদক সেবন করে তিনি শুধু তাঁর স্ত্রীকেই নয়, ছোট সন্তানদেরও মারধর করতেন। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। দণ্ডিত ব্যক্তিও অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন।'
অভিযুক্ত আল-আমিনকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়। তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অবস্থা
লাবনী আক্তার ও আল-আমিন দম্পতির চার বছরের এক ছেলে ও সাত বছরের এক মেয়ে রয়েছে। লাবনী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এসআই সাজ্জাদ হোসেন বলেন, 'ওই নারীর শরীরে মারধরের আলামত পাওয়া গেছে। সময়মতো উদ্ধার করা না গেলে বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারত।' বর্তমানে ভুক্তভোগী মা ও তাঁর ছেলে-মেয়েরা নিরাপদে বাড়িতে রয়েছে।
আইনি ব্যবস্থা
সিনথিয়া হোসেন আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের অপরাধের জন্য আরও বড় শাস্তির বিধান রয়েছে, যা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব নয়। এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার জন্য ওই নারীকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশকে তাঁকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



