নরসিংদীর রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু, মৃত বেড়ে ৪
রায়পুরায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু, মৃত ৪

নরসিংদীর রায়পুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মোস্তফা মিয়া (৩৬) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ওই সংঘর্ষের ঘটনায় মোট চারজনের মৃত্যু হলো।

নিহত ব্যক্তি ও ঘটনার বিবরণ

নিহত মোস্তফা মিয়া রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান। এর আগে নিহত তিনজন হলেন নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার অনিক (২২), বীরগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার কাউসার আহমেদ (৩৭) এবং কান্দাপাড়ার মালয়েশিয়াপ্রবাসী লতিফ মোল্লা (৩৫)।

সংঘর্ষের ঘটনা ও নিহতদের লাশ উদ্ধার

গত মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের এই সংঘর্ষ চলে টানা কয়েক ঘণ্টা। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ওই দিন অনিক (২২) নামের এক তরুণ, পরদিন কাউসার আহমেদ (৩৭) এবং এর পরদিন লতিফ মোল্লার (৩২) লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মারা গেলেন মোস্তফা। আরও কয়েকজন এখনো নিখোঁজ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মোস্তফার চিকিৎসা ও মৃত্যু

পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা জানান, মঙ্গলবার সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হন মোস্তফা। তাঁকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গত পাঁচ দিন তিনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গতকাল শনিবার দুপুরের দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। আজ সকাল নয়টার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের পর মোস্তফার লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংঘর্ষের পটভূমি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ববিরোধের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই আলাল মুন্সির সমর্থকেরা এলাকার বাইরে ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে তাঁরা স্পিডবোটে ভাড়াটে অস্ত্রধারীদের নিয়ে নিলক্ষায় প্রবেশ করে নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এরপরই দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। এ সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক নামের এক তরুণ নিহত হন। পরদিন বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার চরাঞ্চল চরদীঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুরে মেঘনা নদীতে ভেসে আসা কাউসার আহমেদের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে নিলক্ষার হরিপুর গ্রামে মেঘনা নদীতে ভেসে উঠলে লতিফ মোল্লার লাশ উদ্ধার করা হয়। আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন মোস্তফা।