ময়মনসিংহে যুবদল-ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে শ্রমিক নেতা হত্যা মামলা, তিনজন বহিষ্কার
ময়মনসিংহে শ্রমিক নেতা হত্যা মামলা, তিনজন বহিষ্কার

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক নেতা মানিক মিয়া (৪০) হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

নিহত মানিক মিয়া গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার আজিবুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় পালকি গাড়ির চালক ছিলেন এবং উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের ভাষ্য, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েল আনতে যান মানিক মিয়া। পরে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীর নেতৃত্বে একদল লোক মানিককে ধরে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাঁকে পশ্চিম দাপুনিয়া এলাকার হোসেন আলীর বাড়ির সামনে নিয়ে দফায় দফায় নির্যাতন ও মারধর করা হয়।

স্ত্রীর জোরপূর্বক বিবৃতি

স্বজনদের অভিযোগ, রাতে শোয়েব মুনশীর লোকজন মানিকের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার ও তাঁর ছেলেকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। পরে সুমাইয়া সেখানে গেলে তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক ‘স্বামী মাদক ব্যবসায়ী’, এমন বক্তব্য মুঠোফোনে রেকর্ড করানো হয়। রেকর্ড নেওয়ার পর গুরুতর আহত মানিককে স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৃত্যুর কারণ

হাসপাতালের মৃত্যুসনদে চিকিৎসক উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মানিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিহত ব্যক্তির পা ও ঊরুর হাড় ভেঙে গিয়েছিল, তবে তা চামড়া ভেদ করে বাইরে বের হয়নি। মানিকের ভাই সুখ মিয়ার অভিযোগ, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে শোয়েব মুনশী ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।

মামলা ও পুলিশের বক্তব্য

এ ঘটনায় মানিকের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার গতকাল রাতে গৌরীপুর থানায় মামলা করেন। এতে যুবদল নেতা শোয়েব মুনশীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

দল থেকে বহিষ্কার

এদিকে মানিক মিয়াকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জনবিরোধী ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শোয়েব মুনশীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর কোনো ধরনের অপকর্মের দায় দল নেবে না। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সভাপতি শামছুল ইসলাম বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অপরাধ করে কেউ দলে টিকে থাকতে পারবে না।

ছাত্রদলের দুই নেতাও বহিষ্কৃত

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান ও গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান। গতকাল রাতে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন তালুকদারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নুরুজ্জামান সোহেল বলেন, শ্রমিকনেতা মানিক হত্যার অভিযোগে ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।