সাটুরিয়ায় মোবাইল চুরি: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক অবস্থান, ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার
সাটুরিয়ায় মোবাইল চুরি: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নে একটি মোবাইল ফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার দাবি করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বাজার কমিটি তার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক অবস্থান নিয়েছে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেন ছানাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সালিশের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ধরিয়ে দিতে ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা এবং তার পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের ব্যবসায়িক লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গণসালিশ ও জনসমাবেশ

সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টার দিকে হরগজ ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক গণসালিশ ও জনসমাবেশে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। হরগজ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বাজার কমিটির সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তবে অভিযুক্ত সানোয়ার হোসেন ছানা কিংবা তার পরিবারের কোনো সদস্য সভায় উপস্থিত হননি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন হরগজ স্কুলসংলগ্ন ‘রাজমহল সুইটস’ দোকান থেকে একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়। পরে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্থানীয়রা দাবি করেন, ফুটেজে সানোয়ার হোসেন ছানাকে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করা হলেও দীর্ঘ এক সপ্তাহেও কোনো সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ

ভুক্তভোগী দোকান মালিক শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার স্পষ্ট চিত্র রয়েছে। এরপরও অভিযুক্ত ব্যক্তি চুরির বিষয়টি অস্বীকার করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাকে ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। আমি ন্যায়বিচার চাই।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুরস্কার ও লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত

সালিশে উপস্থিত বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে খুঁজে বের করে সালিশের মুখোমুখি করতে ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে হরগজ ইউনিয়ন পরিষদ ১০ হাজার টাকা এবং হরগজ বাজার কমিটি ৫ হাজার টাকা প্রদান করবে বলে জানানো হয়। এছাড়া হরগজ বাজারের ব্যবসায়ীরা সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের কেনাবেচা ও ব্যবসায়িক লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

সামাজিক প্রতিরোধ হিসেবে সিদ্ধান্ত

স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হরগজ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে চুরির ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেউ তাকে খুঁজে দিতে পারলে ঘোষিত ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হবে।”

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার ওসি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, “এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”