নড়াইল সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে নির্যাতনের পর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ জুন দিবাগত রাতে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে সারা রাত মারধর করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত আনোয়ার হোসেনের (৩২) বাড়ি সদর উপজেলার বাঁশগ্রামে।
ঘটনার বিবরণ
পরিবার জানায়, আনোয়ার মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং প্রায়ই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। ২৪ জুন সকালে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সদর উপজেলার গোবরা এলাকায় চোর সন্দেহে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে সারা রাত মারধর করা হয়েছে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
মামলা ও আইনি পদক্ষেপ
আনোয়ারের বড় ভাই নবীর হোসেন (৫০) গোবরা এলাকার প্রসেনজিৎ, সৌরভ, অপূর্ব, আকাশ ও হৃদয়ের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগে ২৯ জুন নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। আহত আনোয়ারের অবস্থার অবনতি হলে ২৯ জুন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। অভিযুক্ত প্রসেনজিতের মা বলেন, ‘সেদিন মধ্যরাতে ওই ব্যক্তি (আনোয়ার) আমাদের বাড়িতে এসে আমার ছেলের ভ্যানের কাছে গিয়ে শিকল ধরে টানাটানি করছিল। এ সময় আমার ছেলে প্রসেনজিতের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। সেখানে অনেক লোক ছিল। কে বা কারা মেরেছে, জানি না। পরে আমার ছেলেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।’
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘মারধরের অভিযোগে আনোয়ারের ভাই একটি মামলা করেছিলেন। এখন ওই মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করা হবে। আসামিরা পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।’



