দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর টঙ্গীপাড়া আদিবাসী পল্লিতে হীরা মিয়া নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ রোববার সকাল ছয়টার দিকে উপজেলার শ্যামপুর টঙ্গীপাড়া আদিবাসী পল্লিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ওই এলাকার পুরুষেরা গ্রামছাড়া।
ঘটনার বিবরণ
খবর পেয়ে বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন, নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুস ও উপপরিদর্শক (এসআই) ডেভিড হিমাদ্রি বর্মণসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত হীরা মিয়া নবাবগঞ্জ উপজেলার জাটিহার গ্রামের মৃত আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি কৃষিশ্রমিক ছিলেন এবং দুই সন্তানের বাবা। পুলিশের দাবি, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কিছুদিন আগে হাজতবাস করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
গ্রামবাসীর বরাত দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য এমদাদুল হক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ ভোর চারটার দিকে শ্যামপুর গ্রামের বাসিন্দা অনিল টুডুর বাড়ির একটি ঘরের জানালা ভাঙার শব্দে তাঁর ঘুম ভাঙে। পরে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে জানালার পাশে হীরা মিয়াকে দেখতে পান। এ সময় তিনি তাঁকে ধরে ফেলেন এবং আশপাশের লোকজনকে ডাকতে থাকেন। গ্রামের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে আটকে মারধর করেন। এতে হীরা মিয়া গুরুতর অসুস্থ হন এবং সকাল ছয়টার দিকে মারা যান। এর পর থেকে পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ির মালিক অনিল টুডুসহ ওই গ্রামের পুরুষ বাসিন্দারা গ্রামছাড়া হয়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার পর বাড়ির মালিকসহ গ্রামের পুরুষেরা এলাকা থেকে পালিয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। হত্যার ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।



