ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান কারি আবু রায়হানকে (৬৪) মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তাঁর বাঁ ঊরুর ওপরের অংশের হাড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। গত রোববার এ ঘটনা ঘটলেও গতকাল মঙ্গলবার তাঁর প্রবাসী ছেলে ফেসবুকে বিচার চেয়ে পোস্ট দেওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে গতকাল রাত নয়টার দিকে পুলিশ একজন অভিযুক্তকে আটক করে।
ঘটনার বিবরণ
আবু রায়হান ফুলবাড়িয়া উপজেলার দেওখোলা ইউনিয়নের কালিবাজাইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকার লালবাগের জামেয়া কুরআনিয়া আরাবিয়ার সাবেক শিক্ষক এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক প্রধান কারি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আবু রায়হানের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই ও স্থানীয় মক্তবের শিক্ষক মোশারফ হোসেন (৪২), মাহমুদুর রহমান (৫০) ও তাসলিম আহমেদের (৪৬) বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। রোববার ওই সীমানায় বেড়া দিতে গেলে প্রতিপক্ষ জায়গাটি নিজেদের দাবি করে। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে আবু রায়হানকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর বাঁ ঊরুর ওপরের অংশের হাড়ে ফাটল ধরে।
ছেলের ফেসবুক পোস্ট ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনার দুই দিন পর গতকাল আহত ব্যক্তির প্রবাসী ছেলে ইফতেখার জামিল ফেসবুকে বিচার চেয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে জামায়াতের কর্মী ও একজন রুকন আছেন বলে উল্লেখ করেন। পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইফতেখার জামিল লেখেন, ‘আমার বাবার ওপর গ্রামের গুন্ডারা আক্রমণ করেছে। তার রানের হাড্ডি ভেঙে ফেলছে। গুন্ডারা জামাতের রাজনীতির সাথে যুক্ত, একজন রুকনও আছেন। স্থানীয় জামাতের এমপিকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি, সময়ক্ষেপণ করছেন। গুন্ডারা এখনো আমাদের বাড়ির সামনে ঘুরছে, আমার চাচার ওপর হামলা করার চেষ্টা করছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই, আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই। আমার গ্রাম ফুলবাড়িয়া, কালিবাজাইল, ময়মনসিংহ—অপরাধীদের নাম: মুশারফ ও আলম।’ ইফতেখার জামিলের দাবি, বিরোধটি জমি নিয়ে হলেও হামলাকারীরা রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে তাঁর বাবা ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সংসদ সদস্যের বক্তব্য
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে স্থানীয় জামায়াতের সংসদ সদস্য কামরুল হাসান আহত আবু রায়হানের লালবাগের বাসায় যান। সেখানে তিনি প্রশাসনকে দ্রুত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানান। সংসদ সদস্য কামরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনা ফেসবুকে ভাইরাল হলে আমার দৃষ্টিগোচর হয়। আমি তাৎক্ষণিক ইফতেখার জামিলের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি। এরপরই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিই। তবে ওনার ছেলে ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন যে আমার সঙ্গে ওনার কথা হয়েছে, আমি কোনো ব্যবস্থা নিইনি—এ কথা সত্য নয়।’
মামলা ও পুলিশের ব্যবস্থা
গতকাল সন্ধ্যায় আহত ব্যক্তির ছেলে কাউসার জামিল বাদী হয়ে মোশারফ হোসেন, মাহমুদুর রহমান ও তাসলিম আহমেদকে আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ মোশারফ হোসেনকে আটক করে। মামলার অন্য আসামি মাহমুদুর রহমান স্থানীয় ইউনিয়ন জামায়াতের বাইতুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, ‘বাড়ির সীমানায় বেড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মারামারি হয় এবং তাতে আবু রায়হান নামের একজনকে আহত হন। বিষয়টি আমাদের না জানালেও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। সংসদ সদস্য বিষয়টি জানালে অভিযোগকারী পাঠাতে বলি। অভিযোগকারী এসে ঘটনা বললে দ্রুত একজনকে আটক করা হয় এবং থানায় মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে।’



