আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট এবং হামাসের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছেন। গত সোমবার তিনি এই আবেদন করেন।
অভিযোগের বিবরণ
প্রসিকিউটর করিম খান বলেছেন, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে হামাসের নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার, মোহাম্মদ দেইফ ও ইসমাইল হানিয়াহের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের কাছে যুক্তিযুক্ত বিশ্বাস করার মতো প্রমাণ রয়েছে যে এই ব্যক্তিরা আন্তর্জাতিক অপরাধ করেছেন।'
গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট
গত ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। আইসিসি প্রসিকিউটর বলেছেন, উভয় পক্ষই যুদ্ধের আইন লঙ্ঘন করেছে।
আইনি প্রক্রিয়া
আইসিসির একটি প্রাক-বিচার প্যানেল এখন প্রসিকিউটরের আবেদন পর্যালোচনা করবে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে আইসিসির সদস্য দেশগুলো নেতানিয়াহু ও হামাস নেতাদের গ্রেপ্তারে বাধ্য হবে। তবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির সদস্য নয়, তাই তারা এই আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না।
প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এই পদক্ষেপকে 'ঐতিহাসিক লজ্জা' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে হামাস আইসিসির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, আইসিসির এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।



