কেরানীগঞ্জে কুরিয়ার চালককে নির্যাতন, বিক্ষোভে ভাঙচুর ও পুলিশের সংঘর্ষ
কেরানীগঞ্জে কুরিয়ার চালক নির্যাতন: বিক্ষোভে ভাঙচুর-সংঘর্ষ

ঢাকার কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরে অবস্থিত স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসে এক গাড়িচালককে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ চালকদের হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার রাতে ঘাটারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

অভিযোগ অনুযায়ী, স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িচালক শাহ আলম (২৮) সোমবার সন্ধ্যায় একটি গাড়ি নিয়ে ঘাটারচর এলাকা থেকে বের হন। পথে সড়কের পাশে গাড়িটি রেখে তিনি নাস্তা করতে গেলে ফিরে এসে সেটি আর দেখতে পাননি। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে গাড়িটি শনাক্ত করার অনুরোধ করলে কয়েকজন কর্মকর্তা তার কথা বিশ্বাস না করে তাকে মারধর করেন।

শ্রমিকদের দাবি, মারধরের একপর্যায়ে শাহ আলমের পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়। তৃষ্ণার্ত অবস্থায় পানি চাইলে তাকে ব্যাটারির এসিড পান করানোরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক চালক ঘাটারচর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সকালেও চালকরা সেখানে অবস্থান নিয়ে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।

বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের অভিযোগ, স্টেডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী রাসেল, মামুন, লিন্টন, কাজল, নুর উদ্দিন ও শুভ চালক শাহ আলমকে মারধর ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রয়েছে। খোয়া যাওয়া গাড়ির অবস্থান সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব ছিল। সেটি না করে একজন নিরীহ চালকের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শ্রমিক প্রতিনিধি আনোয়ার ও চালক রুবেল বলেন, শাহ আলমের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং দায়ীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি ও আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

পুলিশের বক্তব্য

এদিকে চালকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ কর্মচারীদের পক্ষ নিয়ে তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে তিনি, এসআই সোহাগ, কনস্টেবল জয়নালসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। শ্রমিক ও পথচারী মিলিয়ে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, মালিক ও শ্রমিক—উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত বিষয়টির সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অভিযোগে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।