সাংবাদিক আজহার আলীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ
সাংবাদিক আজহার আলীকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো

রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক মো. আজাহার আলী সরকারকে (৫৭) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন।

আজহার আলীর বক্তব্য

গ্রেফতার দেখানো শুনানি শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে আজহার আলী বলেন, “আমি নির্দোষ। আমাকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে গ্রেফতার দেখানো হলো।”

মামলার পটভূমি

এর আগে, গত ১৮ জুন এই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন গ্রেফতার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষে গ্রেফতারের বিরোধিতা করেন আইনজীবী মো. রিপন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বেলা ১২টা ২০ মিনিটে সিএমএম আদালতের হাজতখানা থেকে হুইলচেয়ারে করে আসামিকে এজলাসে তোলা হয়।

পূর্বের ঘটনা

গত বছরের ২৯ আগস্ট এ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, হাফিজুর রহমান কার্জন, মো. আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেগুনবাগিচায় সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর মধ্যেই এক দল ব্যক্তি হট্টগোল করে স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তারা অনুষ্ঠানস্থলের দরজা বন্ধ করে দেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে লাঞ্ছিতও করেন। হট্টগোলকারীরা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়াদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। একপর্যায়ে অতিথিদের অনেককেই বের করে দেওয়া হলেও আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানকে অবরুদ্ধ করে রাখেন তারা। পরে পুলিশ এসে ১৬ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম।

আজহার আলীর পূর্ব গ্রেফতার

উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আজহার আলীকে রামপুরার বনশ্রী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয় তাকে।