ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের কারাবন্দি সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার রশিদ সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে চান। দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি থাকায় সাংসদের দায়িত্ব পালন করতে না পারায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টি (এআইপি) রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানিয়েছে।
পদত্যাগের কারণ
রশিদ জানিয়েছেন, বন্দি অবস্থায় তিনি এলাকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছেন না, তাদের সমস্যা-অভিযোগ সংসদে তুলে ধরতে পারছেন না এবং কোনো প্রতিকারও করতে পারছেন না। এ কারণে তিনি পদত্যাগ করতে চান বলে দলকে জানিয়েছেন। তার এই অনুরোধ দল গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে। রশিদ এই দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
দলের জরুরি বৈঠক
এ বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে, যা দুই দিনব্যাপী চলবে। বৈঠক শেষে দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ইতিমধ্যে বারামুল্লা সংসদীয় এলাকার ১৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শীর্ষ নেতৃত্বের দুই দিনের বৈঠকে সবকিছু পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইঞ্জিনিয়ার রশিদের পরিচিতি
৫৮ বছর বয়সী শেখ আবদুল রশিদ কাশ্মীর উপত্যকায় ইঞ্জিনিয়ার রশিদ নামেই বেশি পরিচিত। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা নেওয়ার পর তিনি জম্মু-কাশ্মীর প্রজেক্টস কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনে প্রায় এক দশক কাজ করেছেন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আবদুল গণি লোনের পিপলস কনফারেন্সে যোগ দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।
গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি
২০০৫ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে প্রথম গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার সদস্য ছিলেন। ২০১৯ সালের আগস্টে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ইউএপিএ আইনে তিনি এখনও কারাবন্দি রয়েছেন। অভিযোগ, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অর্থ সাহায্য করেছিলেন। বন্দি অবস্থাতেই রশিদ আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টি গড়ে তোলেন।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারামুল্লা আসন থেকে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহকে পরাজিত করেন। রশিদের পদত্যাগ করলে বারামুল্লা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এআইপি এখন সেটাই মূল্যায়ন করছে যে, উপনির্বাচনে দলের জয়ের সম্ভাবনা কতটা।



