চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) দক্ষিণ এশিয়ায় শরণার্থী সুরক্ষা নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার আইন অনুষদের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ ও বাংলাদেশ সেন্টার ফর রিফিউজি ল স্টাডিজ (বিসিআরএলএস)।
সম্মেলনের শিরোনাম ও উদ্দেশ্য
‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইভলভিং রিফিউজি প্রোটেকশন আর্কিটেকচার ইন সাউথ এশিয়া ২০২৬’ শীর্ষক এই সম্মেলনে উদ্বাস্তু ও জোরপূর্বক অভিবাসনের কারণে সৃষ্ট আইনগত, মানবিক ও নীতি-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। হিট প্রজেক্টের অধীনে এই আয়োজন করা হয়।
অতিথি ও বক্তারা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী। সভাপতিত্ব করেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন চৌধুরী।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আল-আমিন, মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ইমেরিটাস অধ্যাপক জেমস সি হ্যাথাওয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ, কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ইউএনএইচসিআরের সহকারী প্রতিনিধি (সুরক্ষা) অ্যাস্ট্রিড ক্যাস্টেলিন প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান।
বক্তৃতার মূল বিষয়বস্তু
সাবেক বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় উদ্বাস্তু হওয়ার অভিজ্ঞতা স্মরণ করেন এবং চলমান রোহিঙ্গা সংকটের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, শরণার্থী সুরক্ষা শুধু খাদ্য ও আশ্রয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে শিশুদের জন্য মর্যাদা, শিক্ষা, পরিচয় ও ভবিষ্যতের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আইসিসিপিআর, আইসিইএসসিআর ও সিএটি-সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার যন্ত্রের সঙ্গে শরণার্থী সুরক্ষার সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জিনাত আরা বলেন, শরণার্থী সুরক্ষা মৌলিকভাবে মানব মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও ভাগ করা আন্তর্জাতিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন যে দক্ষিণ এশিয়া এখনও বাস্তুচ্যুতি, রাষ্ট্রহীনতা ও জোরপূর্বক অভিবাসনের দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে এবং এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, শরণার্থী সুরক্ষার জন্য একটি বহুমাত্রিক পদ্ধতি প্রয়োজন, যা আন্তর্জাতিক শরণার্থী আইন, মানবাধিকার আইন, আন্তর্জাতিক প্রথাগত আইন, মানবিক নীতি ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারকে একীভূত করে।
সম্মেলনের সমাপ্তি
সম্মেলন শেষে অংশগ্রহণকারী, গবেষক ও অতিথিদের মধ্যে সনদপত্র, স্মারক ও ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়।



