যৌতুকের টাকা-সোনা না পেয়ে গৃহবধূকে আগুন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
যৌতুকের টাকা-সোনা না পেয়ে গৃহবধূকে আগুন, মৃত্যু

রাজধানীর মিরপুরের বড়বাগ এলাকায় আগুনে দগ্ধ হওয়া গৃহবধূ শিফা আক্তার (১৯) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ রোববার বেলা তিনটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিবরণ

শিফার বাবার পরিবারের ভাষ্য, গত ২৪ জুন রাতে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার সময় পথে মিরপুর-২-এর বড়বাগ এলাকায় স্বামী সোহেল তাঁর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করেন।

যৌতুকের দাবি

শিফার বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আট মাস আগে সোহেলের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ছয় ভরি সোনা ও নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। তখন পাঁচ ভরি সোনা ও কিছু টাকা দেওয়া হলেও বাকি দাবিকৃত সোনা ও টাকা দিতে না পারায় সোহেল তাঁর মেয়ের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোক বলেন, শিফা চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁর কথার একটি অডিও রেকর্ড পেয়েছি। সেখানে তিনি বলেন স্বামী তাঁকে নির্যাতন করতেন। সেই কারণে নিজেই নিজের শরীরে আগুন দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে সোহেল পলাতক রয়েছেন।

চিকিৎসা ও মৃত্যু

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, শিফার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শিফার শরীরের ৬৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

পরিবারের অবস্থান

জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ি কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার নওগা গ্রামে। সোহেল ও শিফা দুজনই পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। তাঁরা মিরপুর-২-এর বড়বাগ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার পাশে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ