বর্তমান সময়ে ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখালেও বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমেছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখানোর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, “এখন থানায় গিয়ে মামলা করতে কোনও সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা নেই, তাই রেকর্ডের সংখ্যা বেড়েছে।”
সংসদে বাজেট আলোচনা
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা মঞ্জুরির দাবি পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা এই দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন।
বিরোধী সাংসদদের সমালোচনা
ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, “গত মার্চ ও এপ্রিলে সারা দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ ও ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুন হচ্ছে।”
আইনজীবীদের ব্যান্ড (পেশাক) পরে অধিবেশনে আসা রুমিন ফারহানা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চমৎকার বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, “এই যখন আমাদের সিকিউরিটির অবস্থা, তখন আমরা ৩১ হাজার কোটি টাকার বেশি দাবি তুলছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের মুগ্ধতা যদি তিনি তার কাজের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে ১ টাকা করার প্রস্তাব রাখতাম না।”
অপরদিকে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল খালেক দেশে মাদকের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে বলেন, “ইউনিয়ন ও মহল্লাভিত্তিক ‘গ্রাম পুলিশ’ নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে মাদক ও দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং এই খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাব
সংসদ সদস্যদের এসব সমালোচনার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “গত ১০-১৫ বছরের তুলনায় খুনের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির পরিসংখ্যানে আমরা ঐতিহাসিকভাবে উন্নত অবস্থায় আছি। তবে একটি ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি, তা হলো— ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি চিত্র পেয়েছি। এর কারণ হলো, আগে সামাজিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ধর্ষিতারা থানায় যেতে পারতো না। এখন থানায় গেলেই বা অনলাইনে তারা অভিযোগ দায়ের করতে পারে। এখানে কোনও ইন্টারফেয়ারেন্স নেই বলেই নম্বরটা একটু বেড়েছে। তবে সুখের কথা হলো, ঘটনা যেখানেই ঘটুক, পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে।”
গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ও সামাজিক মোটিভেশন ছাড়া কোনও দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না।”
বাজেট বরাদ্দ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্ত্রণালয়ের বাজেটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজেও ক্যাবিনেটে বাজেট অনুমোদনের সময় জানতে চেয়েছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ কতটুকু বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার ৫০০-৭০০ কোটি টাকা বেড়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও জুয়া প্রতিরোধ আইনের মতো বিষয়গুলো পাস হওয়ার পর প্রকল্প অনুযায়ী আমরা আরও বরাদ্দ চাইবো।”
এছাড়া রুমিন ফারহানার পোশাকের (আইনজীবীদের ব্যান্ড) বিষয়ে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, “সংসদের নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি রয়েছে, এখানে বাইরের কোনও বিধি চলে না বা পোশাকের কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে তার পরা পোশাকটিও অত্যন্ত শোভন।”



