আষাঢ়ের ঝড়বৃষ্টির গরমে ত্বক পুড়ে যাচ্ছে, মুখে কালচে দাগছোপ পড়ছে। প্রতিদিন বাইরে বেরোলে হাত বা মুখের রোদ লাগা অংশে ফুসকুড়ি ও র্যাশ দেখা দিচ্ছে। দুই গালে কালচে ছোপও পড়ছে। বাজারের প্রসাধনী ব্যবহার না করে ঘরোয়া টোটকায় ভরসা রাখতে পারেন ডাবের পানির ওপর। ত্বক পরিচর্যায় ডাবের পানি আশ্চর্যজনকভাবে উপকারী। গরমের দিনে ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে ডাবের পানি খাওয়া যেমন উপকারী, তেমনি ত্বকের পরিচর্যায়ও ভীষণ কার্যকর, বিশেষ করে সানবার্ন থেকে বাঁচতে।
ডাবের পানির পুষ্টিগুণ ও ত্বকের জন্য উপকারিতা
আকাঙ্ক্ষাস গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার অ্যারোমা থেরাপিস্ট জুলিয়া আজাদ জানিয়েছেন, ডাবের পানিতে আছে ভিটামিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ভেতর থেকে কোষ পরিষ্কার করে এবং পুষ্টি জোগায়। এটি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখে এবং প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। ত্বক মসৃণ ও ব্রণমুক্ত রাখতে ডাবের পানির জুড়ি নেই। ভিটামিন সি ত্বকের প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনে।
সানবার্ন ও বার্ধক্যের ছাপ দূর করতে ডাবের পানি
জুলিয়া আজাদ বলেন, যারা দীর্ঘসময় বাইরে থাকেন বা বাড়িতেই দিন কাটান, তাদের ত্বকের সানবার্ন দূর করতে ডাবের পানি কার্যকর। বার্ধক্যের বলিরেখা ও চামড়া কুঁচকে যাওয়া ভাব কমাতেও এটি ব্যবহার করা যায়। প্রতিদিন মুখ ধোয়ার পর তুলা দিয়ে অল্প ডাবের পানি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন।
ঘরোয়া প্যাক ও ফেস মিস্ট হিসেবে ব্যবহার
মুলতানি মাটি, চন্দনের গুঁড়া ও ডাবের পানি মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে মুখে বা হাত-পায়ের ত্বকে ব্যবহার করলে ভেতরের ময়লা ও বাইরের ধুলাবালি দূর হয়। সপ্তাহে অন্তত দুবার এই প্যাক ব্যবহারে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল থাকে। যারা সারাদিন বাইরে থাকেন, তারা ফেস মিস্ট হিসেবে ডাবের পানি স্প্রে বোতলে করে ব্যবহার করতে পারেন। চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে সমপরিমাণ ডাবের পানি ও আলুর রস মিশিয়ে তুলার প্যাডে ভিজিয়ে চোখে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে অল্পদিনেই ভালো ফল পাওয়া যায়।
সতর্কতা ও ব্যবহারের নিয়ম
সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে আগে ব্যবহার করে দেখে নেওয়া ভালো। সব সময় তাজা ডাবের পানি ব্যবহার করা উচিত। ফ্রিজে রাখলেও দুই-তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ না করা ভালো।



