মোহাম্মদপুর অপরাধমুক্ত করতে সরকারের পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মোহাম্মদপুর অপরাধমুক্ত করতে সরকারের পরিকল্পনা আছে

রাতারাতি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের পুরো এলাকা অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২০ জুন) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মোহাম্মদপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা

মোহাম্মদপুরে দিনের বেলায় মোবাইলের দোকানে ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং ওই এলাকায় অপরাধ বাড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মোহাম্মদপুর বহু বছর ধরে অপরাধীদের একটি ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, 'মোহাম্মদপুরের মতো একটা এলাকা, যেখানে বহু বছর যাবত আমি বলব অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়েছে, সেটা ওভারনাইট নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আমরা কিছু পরিকল্পনা নিয়েছি। এখনই সেটা বলতে চাই না। মোহাম্মদপুরকেও আমরা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবো, ইনশাআল্লাহ। সেখানে অপরাধীদের পর্যায়ক্রমে নির্মূল করা হবে।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর আগেও মোহাম্মদপুরে এক নারীর ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় চার-পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে মালামাল উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি বলেন, থানা, মামলা, গণমাধ্যম কিংবা সামাজিক মাধ্যমে যেকোনও অপরাধের তথ্য সামনে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভালো কাজের পুরস্কার যেমন আছে, খারাপ কাজের শাস্তিও হচ্ছে

পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু পুরস্কার নয়, খারাপ কাজের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেটার নাঈমের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, 'তল্লাশির ক্ষেত্রে ডিউ প্রসেস অনুসরণ করা হয়নি, শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও এসেছে। আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করে দায়ী কনস্টেবল, সাব-ইন্সপেক্টর এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। কাউকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, কাউকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংও চলছে।'

তার দাবি, এ ধরনের ব্যবস্থা সবসময় সংবাদমাধ্যমে না এলেও পুলিশের ভেতরে নিয়মিতই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নাজমুল করিম খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ‘আইন মেনেই’

গাজীপুরের সাবেক পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান সাত মাস আগে সাময়িক বরখাস্ত হলেও তার বিরুদ্ধে এখনও চূড়ান্ত ব্যবস্থা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিনিয়র কর্মকর্তাদের বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় সময় লাগে এবং তা আইন অনুযায়ীই হয়। তিনি বলেন, 'সিনিয়র অফিসারদের ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংয়ে একটু সময় লাগে। আইন অনুসারে লাগে। সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরই সিদ্ধান্ত হবে।' তার ভাষায়, বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোয়, কিছু ক্ষেত্রে তা রাষ্ট্রপতি পর্যন্তও গড়ায়। ফলে আগেভাগে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সম্ভব নয়।

মংলার পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন

খুলনা-মংলা এলাকায় কোস্টগার্ডের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে নদী ও উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুতা দমনে বিশেষ অভিযান চলছে। অতীতে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হলেও কিছু দস্যু আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই বাস্তবতায় কোস্টগার্ডকে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'মংলার ঘটনায় কিছু জলদস্যু একটি পন্টুন ব্যবহার করত। সেটি সরিয়ে ফেলার পর তারা ক্ষুব্ধ হয়ে কোস্টগার্ডের ওপর হামলা করে। কোস্টগার্ড আত্মরক্ষার্থে যা করার করেছে, মামলাও হয়েছে।'

তার দাবি, মিরাজ নামে একজনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও কোস্টগার্ডের ওপর দায় চাপিয়ে হামলার চেষ্টা হয়েছে। তবে সরকারের কাছে থাকা তথ্যে এটিকে জলদস্যুদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের অংশ বলেই মনে হচ্ছে।