প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকা বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মোটরসাইকেল ভাড়া চালক মিরাজ শেখকে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (১২ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রুলসহ এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। তিনি জানান, ১৫ দিনের মধ্যে মিরাজ শেখকে হাজির করতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে গত ২২ জুন মিরাজ শেখের বাবা এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, কোস্টগার্ডের ডিজিসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
মিরাজ শেখের নিখোঁজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ১৬ মে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন রিটে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আমি দেখছি, কোস্টগার্ড আমার স্বামীকে নিয়া গ্যাছে। এহন তারা অস্বীকার করে।” কথাগুলো বলছিলেন সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার মুক্তা খাতুন। তিনি কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তার স্বামীকে গুম করার অভিযোগ করেছেন।
স্বজনরা জানান, মিরাজ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। ১০ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মাছ ধরে বাড়িতে এসে ঘুমান। সন্ধ্যার আগে অচেনা নম্বর থেকে কয়েকবার ফোন এলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে জয়মনির ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে মিরাজকে সাদাপোশাকে থাকা দুজন ধরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা ছুটে গিয়ে দেখেন, কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে তুলে মিরাজকে মোংলার দিকে নেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জয়মনির ঘোল ও ঠোটা এলাকার এক নারী ও তিনজন পুরুষের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা চারজনই মিরাজকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। মিরাজকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মোটরসাইকেলটি দোকানি আল-আমিনের জিম্মায় রেখে যায়। পরে ২১ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্য রবিন পরিচয়ে এক ব্যক্তি চাবি দিয়ে খুলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। যদিও ২২ এপ্রিল কোস্টগার্ডের কয়েকজন মোটরসাইকেলটি আবার নিয়ে আসেন।



