বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মণি এলাকার মিরাজ শেখ নামের এক মোটরসাইকেল চালক প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (২৩ জুলাই) হাইকোর্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আদেশ ও রুল জারি
বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মিরাজের বাবা মোস্তফা শেখের দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে এই আদেশ ও রুল জারি করেন। রুলে স্বরাষ্ট্র সচিব ও কোস্টগার্ডের মহাপরিচালকসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন পিটিশনের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি জানান, হাইকোর্ট মিরাজ শেখকে ১৫ দিনের মধ্যে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
এক জাতীয় দৈনিকে ১৬ মে মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন রিট পিটিশনের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, “আমি নিজে দেখেছি কোস্টগার্ড আমার স্বামীকে নিয়ে গেছে। তারা তা অস্বীকার করছে।” সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মণির ঘোল এলাকার বাসিন্দা মুক্তা খাতুন এসব কথা বলছিলেন। তিনি কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তার স্বামীকে অপহরণের অভিযোগ এনেছেন।
স্বজনরা জানান, মিরাজ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি মোটরসাইকেল ভাড়া দিতেন। ১০ এপ্রিল তিনি মাছ ধরে বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। সন্ধ্যার আগে অজানা নম্বর থেকে বেশ কয়েকটি কল পাওয়ার পর তিনি বাড়ি থেকে বের হন। রাত ৭টার দিকে জয়মণির ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে সাদা পোশাকে দুজন ব্যক্তি মিরাজকে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা ছুটে গিয়ে দেখেন মিরাজকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে করে মোংলায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জয়মণির ঘোল ও ঠোটা এলাকার চারজন ব্যক্তি ও এক নারী সাংবাদিকের সাথে কথা বলেন। চারজনই জানান, তারা মিরাজকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে নিয়ে যেতে দেখেছেন। তবে তারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছিলেন।
মিরাজকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মোটরসাইকেলটি দোকানি আল-আমিনের কাছে রেখে দেওয়া হয়। পরে ২১ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্য রবিন নামের এক ব্যক্তি চাবি দিয়ে দরজা খুলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। তবে ২২ এপ্রিল কিছু কোস্টগার্ড সদস্য মোটরসাইকেলটি ফিরিয়ে দেন।



