পরিবহনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও ভোলায় প্রায় কোটি টাকার ইলিশ মাছ জব্দের পর তা গায়েবের অভিযোগে বিচারিক কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একজন অতিরিক্ত জেলা জজের নিচে নন—এমন পদমর্যাদার কর্মকর্তার নেতৃত্বে এই বিচারিক তদন্ত কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে।
আদালতের আদেশ ও রুল
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এ আদেশ দেন। রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, গত ১২ মের এই ঘটনা তদন্তে বিচারিক কমিটি গঠন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইলিশ মাছের এই বিশাল চালান জব্দের পর আইনানুগ প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে যেভাবে তা আত্মসাৎ বা নিষ্পত্তি করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করবে কমিটি। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
‘ভোলায় জব্দ ইলিশ গায়েব’ শিরোনামে গত ২০ মে একটি দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে মাছ উদ্ধার ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ৩ জুন স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন দেন মৎস্য ব্যবসায়ীরা। এতে ফল না পেয়ে কামাল মাঝিসহ ১১ জন মৎস্য ব্যবসায়ী গত বৃহস্পতিবার রিট করেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোলার চরফ্যাশন থেকে মাছ ব্যবসায়ীদের বৈধভাবে কেনা কোটি টাকার ইলিশ মাছ ঢাকায় নেওয়ার পথে তা জব্দ করা হয়। জব্দ মাছের কিছুটা মাদ্রাসা–এতিমখানায় দেওয়ার নামে বেশির ভাগ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে। জব্দ করার পর মাছের তিন ভাগ বরিশাল নিয়ে বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আলোচিত হচ্ছে। জেলা শহরের কালিনাথ বাজার এলাকা দিয়ে পরিবহনকালে তিনটি ট্রাকে ১৫৫টি ককশিটে বোঝাই বড় আকারের ইলিশ মাছ জব্দ করে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন টিম। এই মাছের ক্রয়মূল্য ছিল ৯৪ লাখ ২ হাজার ৭৮৪ টাকা।
আইনি প্রক্রিয়া ও রুলের বিষয়বস্তু
পরিবহনের অনুমতি থাকা সত্ত্বেও এই ইলিশ বেআইনিভাবে জব্দ, পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক জব্দ তালিকা প্রস্তুত বা কোনো বিচারিক আদেশ ছাড়াই নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা–ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। মৎস্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া ও রোকনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন সংশ্লিষ্ট ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।



