জাবির বহিষ্কৃত ছাত্রীকে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
জাবির বহিষ্কৃত ছাত্রীর পরীক্ষায় অংশগ্রহণে হাইকোর্টের নির্দেশ

দুই বছরের জন্য বহিষ্কৃত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আমীর ইনিসীকে মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (২৯ জুন) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন।

শুনানিতে যা বলা হয়

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফজলুর রহমান ও উম্মে কুলসুম রেখা। শুনানি শেষে ফজলুর রহমান বলেন, ইনিসীর কাছে বা তার কক্ষে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। তিনি গাঁজা সেবনও করেননি বলে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

পটভূমি: বহিষ্কারের ঘটনা

এর আগে, গত ১৭ জুন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের একটি কক্ষে মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ ও সেবনের অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাদের আবাসিক হল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করারও সুপারিশ করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান ওই সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান। বহিষ্কৃত দুই শিক্ষার্থী হলেন, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ৫১তম ব্যাচের তনুজা তিথি এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের সানজিদা আমীর ইনিসী।

অভিযান ও তদন্ত

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের ১১৬নং কক্ষে হল প্রশাসন অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে। কক্ষটি তনুজা তিথির নামে বরাদ্দ ছিল। অভিযানের সময় সেখানে সানজিদা আমীর ইনিসীও উপস্থিত ছিলেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮ লঙ্ঘন করেছেন। ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী- বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস, বিভাগ, ইনস্টিটিউট বা আবাসিক হলে দেশি-বিদেশি যেকোনো ধরনের মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ, সেবন বা ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

শাস্তির বিবরণ

পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী দুই শিক্ষার্থীকে দুই বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এবং স্থায়ীভাবে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি তনুজা তিথির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে মামলা করার জোর সুপারিশ করা হয়।