জব্দকৃত মালামাল ও যানবাহন সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় একটি ১২ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (২২ নভেম্বর) এ আদেশ দেন। আইনসচিবের প্রতি এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
কমিটির কার্যপরিধি ও সময়সীমা
কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই কমিটি জব্দ মালামাল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর পদ্ধতি প্রণয়ন করবে। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন ও যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী।
রিটের প্রেক্ষাপট
জব্দ করা মালামাল সংরক্ষণে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে মোহাম্মদ নোয়াব আলীসহ পাঁচ আইনজীবী প্রায় চার বছর আগে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৩০ আগস্ট হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। ওই আদেশে জব্দ মালামাল ও যানবাহন থানা ও মালখানায় কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়, তা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
কমিটির সদস্যবৃন্দ
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের কমিটির সদস্যদের নাম জানান। কমিটির সভাপতি থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব। অন্যান্য সদস্যরা হলেন:
- পুলিশের আইজিপি মনোনীত একজন পুলিশ সদস্য
- সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার জেনারেল মনোনীত অধস্তন আদালতের একজন বিচারক
- বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোনীত একজন প্রতিনিধি
- তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মনোনীত একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ
- অ্যাটর্নি জেনারেলের মনোনীত দুজন কর্মকর্তা
- রিট আবেদনকারীর আইনজীবী ও তাঁর একজন প্রতিনিধি
- ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর
- বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) মনোনীত একজন প্রতিনিধি
- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মনোনীত একজন প্রতিনিধি
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মনোনীত একজন প্রতিনিধি
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মনোনীত শুল্ক অধিদপ্তরের একজন প্রতিনিধি
সার্কুলার জারির নির্দেশ
একই সঙ্গে বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দেশের সব থানা বরাবর পুলিশের মহাপরিদর্শককে সার্কুলার জারি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান শিশির মনির। তিনি বলেন, জিম্মায় থাকা গাড়ি ও জব্দ করা দ্রব্যাদি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে দেশের সব অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের প্রতি সার্কুলার জারি করতে বলেছেন।



