জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে।
রায়ের বিবরণ
ইনুর বিরুদ্ধে আনা মোট আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি (৩, ৬ ও ৭ নম্বর) প্রমাণিত হয়েছে। রায়ে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ৩ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। ৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। ৭ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো। ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করে যে সব সাজা যুগপৎ চলবে, অর্থাৎ ইনু মোট ১০ বছর কারাভোগ করবেন।
অভিযোগসমূহ
প্রথম অভিযোগ: ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে বলপ্রয়োগের উসকানি ও হত্যার নির্দেশ দেওয়া—প্রমাণিত হয়নি।
দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯ জুলাই গণভবনে ১৪-দলীয় জোটের সভায় ‘শুট অ্যাট সাইট’ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নেওয়া—প্রমাণিত হয়নি।
তৃতীয় অভিযোগ: কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে আন্দোলনকারীদের তালিকা প্রণয়ন ও আটকের নির্দেশ—প্রমাণিত হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগ: মারণাস্ত্র ব্যবহার ও হেলিকপ্টার বোম্বিং পরিকল্পনা—প্রমাণিত হয়নি।
পঞ্চম অভিযোগ: গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য ও হত্যাকাণ্ড সমর্থন—প্রমাণিত হয়নি।
ষষ্ঠ অভিযোগ: ১৪-দলীয় জোটের সভায় জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত—প্রমাণিত হয়েছে।
সপ্তম অভিযোগ: শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে ষড়যন্ত্র—প্রমাণিত হয়েছে।
অষ্টম অভিযোগ: কুষ্টিয়ায় ছয়জন ও দেশব্যাপী ১ হাজার ৪০০ জন হত্যা ও ২৫ হাজার আহতের নির্দেশ—প্রমাণিত হয়নি।
মামলা প্রক্রিয়া
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয় ১১ সেপ্টেম্বর। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয় ২৫ সেপ্টেম্বর এবং ২ নভেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার শুরু হয় ৩০ নভেম্বর, প্রথম সাক্ষ্য গ্রহণ ১ ডিসেম্বর। প্রসিকিউশন ১০ জন ও আসামিপক্ষ ২ জন সাক্ষী হাজির করে। যুক্তিতর্ক চলে ১৩ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত। ২২ জুন রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
রায় সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। এটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ষষ্ঠ মামলার রায়।



