গাজীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালনরত এক অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটরকে (অতিরিক্ত পিপি) ছুরিকাঘাত, শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন পিপি অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়ন।
মামলা ও জামিনের বিবরণ
গত ২৮ জুন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের বিরুদ্ধে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানায় মামলা হয়। তিনি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন লাভ করেছেন।
মামলার বাদী গাজীপুর জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনির হোসেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৫ জুন বেলা ১১টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে একটি দাপ্তরিক বিষয় নিয়ে অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়নের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং পরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করেন। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে আঘাতটি তার ডান ভ্রুর ওপর লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
হত্যাচেষ্টার ঘটনা
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আহত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে গেলে অভিযুক্ত তার বুকের ওপর উঠে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের মাধ্যমে হত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তার কপালে সেলাই দেওয়া হয়।
চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে গত ২৮ জুন তিনি গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
আগাম জামিনের আবেদন
মামলার পর অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আবু তাহের নয়ন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৮ ধারায় আগাম জামিন চেয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) শুনানি শেষে আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের পিপি মো. মোস্তফা কামাল বলেন, “একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। আদালত পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা চাই বিষয়টি আইন ও পেশাগত শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হোক। আদালতের মর্যাদা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের সবার প্রধান দায়িত্ব।”
গাজীপুর মহানগর পুলিশের সদর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটির প্রতিটি দিক নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা প্রতিবেদন, আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে যে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



