নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস সংযোগের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের পাঁচজনের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) তাদের কুমিল্লা গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। নিহতরা হলেন- আব্দুল মান্নান মিয়া (৫০), তার স্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিক সুলতানা বেগম (৩৮) ও তাদের একমাত্র কলেজ পড়ুয়া ছেলে সিয়াম (১৯)। এছাড়াও শিশু কন্যা মিম (১১) ও পার্শ্ববর্তী রুমের শিশু হযরত আলী মৃত্যুর সন্নিকটে রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দরের মদনপুর ইউপির চাঁনপুর এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিস্ফোরণে দগ্ধ হন একই পরিবারের চারজনসহ মোট ৫ জন। এরপর থেকে তারা ঢামেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে ঢামেক বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউপির ৫নং ওয়ার্ড চাঁনপুর এলাকায় ভাড়াটিয়া একতলা বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিয়েছেন বাড়ির মালিক আক্তার হোসেন। এ ভাড়াটিয়া বাড়িতে ভাড়া নিয়ে আব্দুল মান্নান মিয়া তার পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। প্রতিদিনের ন্যায় গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আব্দুল মান্নান মিয়ার স্ত্রী সুলতানা বেগম রান্না ঘরের দরজা জানালা না খুলে রান্না করতে চুলায় আগুন জ্বালায়। এসময় হঠাৎ আগুন বাসার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে একই পরিবারের ৪ জনসহ ৫ জন অগ্নিদগ্ধ হলে আহতদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তির চারদিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের কলেজ পড়ুয়া ছেলে মারা যান।
পুলিশের বক্তব্য
বন্দর থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার তাদের দাফন করা হয়েছে বলে স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি।



