কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া পাহাড়ে লুকিয়ে রাখা অপহৃত চার তরুণকে উদ্ধার করেছে র্যাব ও পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। তবে অপহরণকারী চক্রের কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
অপহৃতদের পরিচয় ও অপহরণের পদ্ধতি
উদ্ধার হওয়া তরুণরা হলেন ফেনীর গণিপুর গ্রামের এমাম হোসেন (১৯) ও জিসান (২৩), একই জেলার রামপুরের তৌহিদুল ইসলাম (১৯) এবং হবিগঞ্জ জেলার সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)। গত ২৭ জুন ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের টেকনাফে আনা হয়। টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অপহরণের মূল হোতা টেকনাফের রঙ্গিখালী গ্রামের বাসিন্দা রাসেল। ফেনীতে কাজ করার সুবাদে অপহৃতদের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।
উদ্ধার অভিযান ও বর্তমান অবস্থা
র্যাব ও পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ দুপুর ১২টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করে। অপহরণকারীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করে। বিকেলে চারজনকে টেকনাফ মডেল থানায় নেওয়া হয়। তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
মুক্তিপণ দাবি ও পরিবারের ভোগান্তি
অপহরণের পর মুক্তিপণ বাবদ পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তরুণদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। একটি পরিবার ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েছিল বলে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া হোসাইনের মা দিল বাহার বলেন, শনিবার ফোন করে এক ব্যক্তি তাকে জানান, হোসাইনকে অপহরণ করা হয়েছে। পরে ছেলের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। ১০ লাখ টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে ছেলেকে মারধর করা হয়। তিনি ছেলের কান্নাকাটির চিৎকার শুনতে পান। পরে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।
আইনি ব্যবস্থা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে। তথ্যপ্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা শনাক্ত করা হয়। অপহৃতদের উদ্ধার করা গেলেও মূল হোতা রাসেলসহ অন্যরা পলাতক।



