অ্যাম্বুলেন্সে ট্রাইব্যুনালে ফজলে করিম, বিচারকাজ বিতর্কিত করার অপচেষ্টার অভিযোগ
অ্যাম্বুলেন্সে ট্রাইব্যুনালে ফজলে করিম, বিচারকাজ বিতর্কিত করার অপচেষ্টা

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে আজ রোববার অ্যাম্বুলেন্সে করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হয়েছে। বেলা ১১টার দিকে তাঁকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হলেও এজলাসে তোলা হয়নি; তিনি অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই ছিলেন। বিচারকাজ শেষে দুপুরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

মামলার বিবরণ ও আসামি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা এই মামলায় ফজলে করিম চৌধুরীসহ মোট ২২ জন আসামি রয়েছেন। অন্যদের মধ্যে আছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আজ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে ফজলে করিমের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী।

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্সের অবস্থা

দুপুরে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচার কার্যক্রম চলাকালে মূল ফটকের কাছেই ফজলে করিমকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি রাখা ছিল। অ্যাম্বুলেন্সের পেছনের গ্লাস ভাঙা ছিল, যা পুলিশ সদস্যরা সংবাদপত্রের কাগজ দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করছিলেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ট্রাইব্যুনালে উপস্থিতি

ফজলে করিম বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন। সেখান থেকেই আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এর আগে গত বুধবারও তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আনা হয়েছিল, এবং সেবারও তাঁকে কাঠগড়ায় তোলা হয়নি।

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য

ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “ফজলে করিম চৌধুরী নামের একজন আসামি আড়াই মাস ধরে এই ট্রাইব্যুনালে আসছেন না। বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালের ধীমান চৌধুরী নামের এক চিকিৎসক বিশেষভাবে একটা সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। ওই সার্টিফিকেট ব্যবহার করে তিনি আদালতে আসা থেকে বিরত থাকছেন।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, তারা ট্রাইব্যুনালকে বিষয়টি জানিয়ে বলেছেন, ফজলে করিম না এলেও তাঁর আইনজীবীর উপস্থিতিতে শুনানি চলতে আইনগত বাধা নেই। ট্রাইব্যুনাল যখন আদেশ দেন যে আসামিকে আনার প্রয়োজন নেই, তখন পরের দিন তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আনা হয়, যা আদেশের পরিপন্থী।

বিচারকাজ বিতর্কিত করার অপচেষ্টা

চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন, “শুধু গণমাধ্যমে কভারেজ পাওয়ার জন্য এবং বিশেষ মহলের সহানুভূতি নেওয়ার জন্য ফজলে করিম অ্যাম্বুলেন্সে করে এলেন। সেটি আবার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট, জাতিসংঘ—নানা জায়গায় দিয়েছেন। এই বিচারকাজকে বিতর্কিত করার জন্য অপচেষ্টা করা হচ্ছে।”