স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ রবিবার সংসদে জানিয়েছেন, দুর্নীতির মামলায় সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রত্যার্পণ প্রক্রিয়া শুরু
নিয়ম ৩০০ অনুযায়ী সংসদে বিবৃতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যার্পণ অনুরোধ পাঠানো হবে এবং আবুধাবির সাথে সমন্বয় করে তাকে খুব শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হবে।’
তিনি জানান, ইউএই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আবুধাবির ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশের মহাপরিচালক ২০২৬ সালের ১২ জুন একটি ইমেল পাঠিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করেন যে, দুর্নীতির মামলার আসামি বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
মামলা ও প্রত্যার্পণ প্রস্তুতি
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডারের অধীনে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রত্যার্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত রয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যার্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদন করেছে।
আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যার্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে বলে তিনি জানান।
ঐতিহাসিক সাফল্য
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ পুলিশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা দায়মুক্তির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, এই অগ্রগতি জাতিকে পুনরায় আশ্বস্ত করবে যে অপরাধী যতই ক্ষমতাশালী হোক না কেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ‘এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে,’ তিনি যোগ করেন।
পূর্বে বাংলাদেশ পুলিশ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোলের কাছে অনুরোধ করেছিল এবং পরে ইন্টারপোল ইউএই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ জানায় বলে মন্ত্রী জানান।



