আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ সোমবার র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পঞ্চম সাক্ষী বেসরকারি চাকরিজীবী মাহমুদুল হাসানকে জেরা করা হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলামের জেরায় মাহমুদুল হাসান বলেন, কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমে (সিটিটিসি) এক মুচলেকায় তিনি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবেন না এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করবেন।
জেরায় মাহমুদুল হাসানের বক্তব্য
জেরায় মাহমুদুল হাসান বলেন, তিনি জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হয়েছিল কি না, তা বলতে পারবেন না। নারী সদস্যদের রিক্রুট করতেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হয়েছিল কি না, তা–ও তিনি বলতে পারবেন না। তিনি জেএমবির দক্ষিণ শাখার কমান্ডার ছিলেন বলে মূলধারার গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল কি না, তা–ও বলতে পারবেন না।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরা
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলামের জেরায় মাহমুদুল হাসান বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে যে তিনটি মামলা চলমান, সেসব মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ভয়ে প্রতিবেদন দাখিলকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোথাও অভিযোগ করেননি।
মামলার বর্তমান অবস্থা
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলার ১০ আসামি ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আছেন। তাঁরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, মো. কামরুল হাসান, মো. মাহবুব আলম এবং কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও আনোয়ার লতিফ খান (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে), লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও মো. সারওয়ার বিন কাশেম। গতকাল তাঁদের সাবজেল থেকে ট্রাইব্যুনালে এনে এজলাসে তোলা হয়।
পলাতক আসামিরা
এ মামলার আরও সাত আসামি পলাতক। তাঁরা হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর সাবেক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ (পরে আইজিপি হন), এম খুরশীদ হোসেন ও মো. হারুন অর রশিদ এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মাদ খায়রুল ইসলাম।



