মুলাদীতে নিখোঁজ কৃষকের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আটক
মুলাদীতে কৃষকের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আটক

নিখোঁজের তিন দিন পর লাশ উদ্ধার

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মো. হারুন হাওলাদার (৫৯) নামের এক কৃষকের মাটিচাপা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের চরমালিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির পেছনের একটি স্থান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। হারুন হাওলাদার চরমালিয়া গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

স্ত্রীর দাবি ও সন্দেহজনক আচরণ

গত শুক্রবার রাতে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। নিখোঁজের পর তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম দাবি করে আসছিলেন, অজ্ঞাতনামা লোকেরা হারুন হাওলাদারকে হাত ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে ট্রলারে করে নিয়ে গেছে। তবে সেলিনা বেগমের কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। এ ছাড়া শুক্রবার রাতে তিনি ঘরের মেঝে কাদামাটি দিয়ে প্রলেপ দিয়েছিলেন।

পুলিশের তদন্ত ও স্ত্রী আটক

পুলিশ জানায়, গত শনিবার ভোরে সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী মুঠোফোনে হারুন হাওলাদারের নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত করেন। ওই দিন সকাল থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে ওই দিন রাতে হারুন হাওলাদারের ছেলে জাফর হাওলাদার বাদী হয়ে তাঁর মায়ের তথ্যমতে থানায় অপহরণ মামলা করেন। ঘটনার পর নিহত হারুনের স্ত্রী সেলিনা বেগমের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের সন্দেহ ও লাশ উদ্ধার

সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী জানান, শনিবার ভোরে সেলিনা বেগম তাঁর স্বামী হারুনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। এলাকার একজন নিরীহ কৃষক নিখোঁজ হওয়ায় সোমবার সকালে প্রতিবেশীরা আশপাশে খোঁজ নিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে হারুনের রান্নাঘরের কাছে নতুন মাটি দেখে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের বক্তব্য ও হত্যার কারণ

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার মো. সোহেল রানা জানান, অপহরণ মামলার পর থেকে হারুন হাওলাদারের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সোমবার দুপুরে লাশ উদ্ধারের পর তাঁকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে তিনি বিয়ের বাইরে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। নিহত হারুনের শরীরে হাতুড়ি ও ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পারিবারিক কলহ ও বিয়ের বাইরের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।