চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে প্রকাশ আজম (৪০) নামে এক দর্জিকে তার ছোট মেয়ের সামনে গুলি ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী আলী আকবরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বশত্রুতা ও চাঁদা দাবির জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে নিহত আজম তার ছোট মেয়েকে নিয়ে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে যান। সেখানে স্থানীয় দিদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা প্রথমে তাকে গুলি করে এবং পরে ধারাল অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনাটি ঘটে হাটহাজারী উপজেলার ৮ নং মেখল ইউনিয়নের পশ্চিম মেখল খলিফাপাড়া এলাকার একটি বিলে।
পরিবারের অভিযোগ
নিহত আজমের স্ত্রী ও বড় মেয়ে জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, আজমের চাচাতো ভাই মো. আলী ও তার ছেলে স্থানীয় সন্ত্রাসী দিদারকে অর্থ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আজমকে হত্যা করেছে। এর আগেও তারা বেশ কয়েকবার আজমের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত রমজানে ও ঈদের পরে দুইবার তাকে পিটিয়ে জখম করা হয়। ওই সময় তারা থানায় মামলা করেছিলেন, যা এখনো চলমান।
পুলিশের বক্তব্য
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দিদার ও জড়িতরা পলাতক রয়েছে।
গ্রেফতার ও তদন্ত
হাটহাজারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী তারেক আজিজ জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পায়ে গুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানোর আঘাত পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান আসামি দিদারুল আলম ও জড়িতরা পলাতক ছিল। এরমধ্যে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এজাহার নামীয় ৩ নং আসামি আলী আকবরকে মেখল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিবারের আহ্বান
নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। তারা জানিয়েছেন, এখন তারা কীভাবে এই পৃথিবীতে বাঁচবেন এবং ভরণপোষণ চলবে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



