বিশ্বকাপের ইতিহাসে বদলি হিসেবে সবচেয়ে বেশি গোল করার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন বেলজিয়ামের তারকা স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকু। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাঁর এই অসাধারণ ফর্ম দলকে আশা জোগাচ্ছে।
বদলি হয়ে ইতিহাস
৩৩ বছর বয়সী লুকাকু ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক আসরে বদলি হিসেবে তিন ম্যাচে গোল করা প্রথম খেলোয়াড়। সর্বশেষ তিন ম্যাচে বদলি নেমেই গোল করেছেন তিনি, পাশাপাশি একটি গোলও তৈরি করে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে চারটি ভিন্ন ম্যাচে বদলি নেমে গোল করা প্রথম খেলোয়াড়ও তিনি। আর একটি গোল পেলেই তিনি ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলারকে ছুঁয়ে ফেলবেন, যিনি বদলি নেমে ৫ গোল করে বিশ্বকাপে শীর্ষে রয়েছেন।
ফিটনেস ধরা দেয়নি
গত মে মাসে বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণার সময় কোচ রুডি গার্সিয়া লুকাকুকে নিয়ে বিপরীতমুখী মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, 'লুকাকু আগের মতো নেই। শুরু থেকে খেলতে পারবে কি না, জানি না। তবে আমাদের সেরা স্ট্রাইকার।' তখন এই মন্তব্য বোঝা না গেলেও বিশ্বকাপে এসে তা স্পষ্ট হয়েছে। ফিটনেস ইস্যুতে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই লুকাকু বদলি হিসেবে নেমেছেন। শুরুর একাদশে ছিলেন শুধু ইরানের বিপক্ষে।
প্রতিপক্ষের ভয়
স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ভালোভাবেই জানেন যে বেলজিয়াম তাদের সেরা স্ট্রাইকারকে কোনো না কোনো সময় মাঠে নামাবে। মজার বিষয়, অন্য দলের কোচরাও এটি জানতেন, কিন্তু লুকাকুর গোল আটকাতে পারেননি। তাঁর ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা ও ৯৩ কেজি ওজনের দানবীয় উপস্থিতি বক্সে ভীতি সৃষ্টি করে। বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের সময়টা পেছনে ফেললেও স্ট্রাইকারদের গোল আদায় করে নেওয়ার সহজাত বৈশিষ্ট্য তাঁর এখনো অটুট।
উদাহরণ ম্যাচ
রয়্যাল টার্সমিসরের ম্যাচে ৬৬ মিনিটে বদলি নেমে কয়েক মুহূর্তের মধ্যে আত্মঘাতী গোল আদায় করে দলকে সমতায় ফেরান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৫ মিনিটে নেমে পরের মিনিটেই গোল। শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে সেনেগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে তাঁর গোলেই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম।
শুধু বদলি নন
লুকাকু শুধু বদলি নেমেই গোল করেন না। ২০১৮ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ ছাড়া সব ম্যাচেই তিনি একাদশে ছিলেন। ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় করা সেই ম্যাচে গোল না পেলেও খেলেন দুর্দান্ত। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপেও বদলি নেমে গোল আছে তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৯১ মিনিটে বদলি নেমে অতিরিক্ত সময়ে তাঁর গোলেই পরের ধাপে উঠেছিল বেলজিয়াম।
চোটের প্রভাব
বদলি নেমে লুকাকুর এই বদলে যাওয়ার পেছনে রয়েছে চোট। নাপোলিতে গত মৌসুমে মাত্র ৭ ম্যাচ খেলতে পেরেছেন। শরীর ভারী হয়ে গিয়েছিল, পর্যাপ্ত খেলার সময় পাননি। তবু কোচ গার্সিয়া লুকাকুকে বিশ্বকাপ দলের বাইরে রাখতে পারেননি। তিনি বেলজিয়ামের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা, এবং ফর্ম যেমনই হোক, গোল করতে তিনি এখনো দলের একমাত্র ভরসা।
সোনালি প্রজন্মের শেষ অস্ত্র
বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের পাঁচজন এখনো টিকে আছেন—কেভিন ডি ব্রুইনা, ইউরি টিলেমান্স, থিবো কোর্তোয়া, অ্যাক্সেল উইটসেল ও লুকাকু। তাঁদের মধ্যে লুকাকুই বেশি উজ্জ্বল। স্পেন আজ সেই আলোয় পুড়তে পারে!



