সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় চুরির অভিযোগে আটক এক যুবককে ফেসবুক লাইভে মারধরের ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর আইনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় এক ইউপি সদস্য। গত শনিবার রাতে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ছত্রিশ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
চুরির অভিযোগে আটক যুবককে প্রকাশ্য লাইভে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে মারধর ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আহমদকে থানায় তলব করেছেন সংশ্লিষ্ট থানার ওসি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও তদন্ত করছেন বলে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মাহফুজুল করিম নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভাইরাল ভিডিও সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় চুরির ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় শনিবার রাতে এক যুবককে চুরির অভিযোগে আটক করে এলাকাবাসী ইউপি সদস্যের কাছে নিয়ে যায়। পরে গভীর রাতে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তি দেওয়ার ঘটনাটি ফেসবুক লাইভে প্রচার করা হয়।
ভিডিওতে ইউপি সদস্য জয়নাল আহমদকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, ‘চোরদের পুলিশে দিলে দু-চার দিন পর জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই কাজ করে এবং চোরদের উৎপাতে এলাকার মান-সম্মান নষ্ট হচ্ছে।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমার ফাঁসি হলে হবে, পদবি গেলে যাবে কিন্তু এই গ্রাম ঠিক করে ফেলব, চোরদের চুরি ছেড়ে দিতে হবে।’
ইউপি সদস্যের বক্তব্য
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. জয়নাল আহমদ জানান, বারবার থানায় অভিযোগ দিয়েও সুষ্ঠু বিচার না পাওয়ায় এবং এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হওয়ায় মুরব্বিদের নিয়ে অভিযুক্তদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এলাকায় ১০ জনের একটি সক্রিয় চোর চক্র দীর্ঘদিন ধরে পানির মোটর, এসি, তার, গরু-ছাগল, নগদ টাকা ও মসজিদের মাইকসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত রয়েছে। অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তবে সর্বশেষ ফেসবুক লাইভে এসে মারধরের ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশের অবস্থান
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মাহফুজুল করিম জানান, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না বিধায় ওই ইউপি সদস্যকে থানায় ডাকা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



