কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকাল ৪টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক তৈয়র উদ্দিন আহমেদ এ আদেশ দেন।
রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির
জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আলম শাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুই দিনের রিমান্ড শেষে জিসানকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
জামিন আবেদন নামঞ্জুর
জিসান মিয়ার আইনজীবী মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘গত রবিবার আমরা জামিন আবেদন করেছিলাম; আদালত সেটি নামঞ্জুর করেছেন। মঙ্গলবার ডিবি পুলিশ এবং আসামিপক্ষ থেকে নতুন কোনো আবেদন করা হয়নি।’
জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য প্রকাশে নিষেধ
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ সম্পর্কে ডিবি পুলিশের ওসি শামসুল আলম শাহ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে জিসান কী তথ্য দিয়েছেন, সেটি তদন্তের স্বার্থে এখন বলা যাচ্ছে না।’
পূর্ববর্তী ঘটনা
গত ১৬ জুন জিসান মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন একই আদালতের বিচারক। তার আগে চার দিন পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড তাকে সুস্থ বলে মত দেওয়ার পর ১৬ জুন দুপুরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।
অভিযোগ ও মামলা
কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারী জিসান মিয়াকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় জিসানসহ চার জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামিও গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
সংগঠন থেকে বহিষ্কার
জিসান মিয়া প্রধান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। অভিযোগের পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।



