নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের শিকার হয়ে আব্দুল মোতালিব (৬৪) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মেম্বার ও তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের কুলচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এই ঘটনায় মহিউদ্দিন নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহতের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
নিহত আব্দুল মোতালিব (৬৪), বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আলফাজ উদ্দিন বেপারীর ছেলে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্তরা হলেন, মুছাপুর মিনারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনোয়ার হোসেন এবং তার ভাগিনা মোহাম্মদ আলী।
টাকা লেনদেনের পটভূমি
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে সুতার ব্যবসার জন্য আব্দুল মোতালিব স্থানীয় ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনকে ১২ লাখ ১৩ হাজার টাকা দেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও টাকা ফেরত না পাওয়ায় উভয়ের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে গত ১২ জুন মহিউদ্দিনের বাড়িতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মুছাপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মেম্বার বিষয়টি নিষ্পত্তির দায়িত্ব নেন।
মারধরের ঘটনা ও মৃত্যু
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার ভোরে আব্দুল মোতালিব পাওনা টাকার বিষয়ে আনোয়ার মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আনোয়ার মেম্বার তার দাড়ি ধরে ধাক্কা দেন এবং কিল-ঘুষি মারেন। এতে আব্দুল মোতালিব মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রতিক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা
এ ব্যপারে মুছাপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর আলম বলেন, "আমার পরিষদের মেম্বার যদি অন্যায় করে থাকে অবশ্যই তার বিচার হবে। আইন তার বিচার করবে।" এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনকে (৫৫) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কামতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. তৈয়বুর রহমান। বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গেছে। নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।" এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন মেম্বারের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



