বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মসজিদে যোহরের নামাজরত অবস্থায় সৌদি প্রবাসী আপন ছোট ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। রোববার (২১ জুন) দুপুরে উপজেলার কাজিরহাট থানার আন্দারমানিক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল সরদার (৪৫) আন্দারমানিক এলাকার বাসিন্দা ও সৌদি আরবপ্রবাসী ছিলেন। অভিযুক্ত হারুন সরদার নিহতের বড় ভাই। তারা দুজনই ওই এলাকার কাঞ্চন সরদারের ছেলে। ঘটনার পরপরই হারুন সরদার পালিয়ে যান।
দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনের পর কিছু খাস জমি নিয়ে ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বড় ভাই হারুন সরদার ওই জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে অপর দুই ভাইও জমিটির দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা সোলায়মান জানান, রোববার সকালে বিরোধপূর্ণ জমিতে বেড়া দেন নজরুল সরদার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে যোহরের নামাজ চলাকালে হারুন সরদার মসজিদে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে নজরুল সরদারের ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি আঘাতে তার হাত, পা ও পেটে গুরুতর জখম হয়।
মসজিদের ইমামের বর্ণনা
মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, 'আমরা যোহরের নামাজ আদায় করছিলাম। তৃতীয় রাকাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি হারুন সরদার একটি বড় ছুরি দিয়ে নজরুল সরদারকে আঘাত করছেন। তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তিনি চারদিকে ছুরি ঘোরাতে থাকেন।' এ সময় স্থানীয় মুসল্লি কবির নামের একজনও আহত হন।
পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বের হামলা
পারিবারিক সূত্র জানায়, জমি নিয়ে হারুন সরদার ও তার ছোট ভাই মজিবর সরদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। ছুটিতে দেশে আসা সৌদি প্রবাসী নজরুল সরদার মজিবর সরদারের পক্ষ নিলে হারুন সরদার তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। এর আগেও নজরুল সরদারের ওপর কয়েক দফা হামলার অভিযোগ রয়েছে। আহত অবস্থায় নজরুল সরদারকে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের শোক ও ক্ষোভ
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নজরুল সরদারের সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে তিনি দেশে থেকে যান। তার পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পবিত্র মসজিদের ভেতরে নামাজরত অবস্থায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কাজিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, 'জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'



