মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, কর্মবিরতি শুরু
মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলা, কর্মবিরতি

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হাসপাতালের সার্জারি ভবনের চতুর্থ তলায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকদের অভিযোগ, হিমেলসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল সার্জারি বিভাগের ৪২৯ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং কয়েকজন চিকিৎসক শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হন বলে দাবি করা হয়।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ জুন) থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন মিটফোর্ড হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এক বিবৃতিতে এসএসএমসি মিটফোর্ড হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) জানায়, হামলার ঘটনায় সহকারী রেজিস্ট্রার, ট্রেইনি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তা জোরদার, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চার দফা দাবি

দাবিগুলো হলো— প্রতিটি ওয়ার্ড ইউনিটের বাইরে অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা এবং সার্জারি বিভাগে দায়িত্বরত আনসার সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোনও অভিযুক্ত শনাক্ত হয়নি

এই ঘটনায় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. দেবাশীষ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। তবে আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”

পুলিশের বক্তব্য

এই বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, “রাতে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনও পক্ষ এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান হিমেল দাবি করেছেন, হাসপাতালে তারা উল্টো ‘মবের’ শিকার হয়েছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।