শনিবার (১১ জুলাই) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারি বর্ষণে রাজধানী ঢাকা ডুবে গেছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে শনিবার রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। ফলে ১২ ঘণ্টায় মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫৮ মিলিমিটার। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমন বৃষ্টিপাত আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
সড়ক ও অলিগলিতে থৈথৈ পানি, স্থবির জনজীবন
সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের শুরুতেই টানা বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর স্বাভাবিক জনজীবন। মূল সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে থৈথৈ করছে পানি। বিশেষ করে বিমানবন্দর সড়ক, বনানী, বিজয় সরণি, কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, মতিঝিল এবং মিরপুরের কাজীপাড়াসহ অধিকাংশ নিম্নাঞ্চল ও মূল সড়ক হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও সড়কে কোমর সমান পানি দেখা গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দোকানপাট ও বাড়িঘরের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে।
অফিসগামী মানুষের চরম ভোগান্তি
রোববার অফিসগামী মানুষের দুর্দশা চরমে পৌঁছায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। সড়কের দুপাশেই যানজট লেগেছে। অনেককে বৃষ্টির মাঝেই ছাতা হাতে হেঁটে অফিস যেতে দেখা গেছে। মোহাম্মদপুর থেকে কুড়িলে কর্মস্থলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ মামুন বলেন, 'বৃষ্টির কারণে রিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ হয়ে গেছে। বাসও খুব কম। অফিসের সময় হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো যানবাহন পাচ্ছি না।' স্কুলশিক্ষিকা সেলিনা পারভীন বলেন, 'সকালে স্কুলে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু বাসায় পানি ঢুকে গেছে, আবার রিকশা বা সিএনজিও পাওয়া যাচ্ছে না। খুব কষ্ট করে বের হতে হয়েছে।'
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতা
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র্যাম্পের নিচের অংশ, বনানী, খিলক্ষেত ও ঢাকা গেটসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ট্রাফিক পুলিশ জানায়, বিশেষ করে কাকলী মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নেমে আসা যানবাহন এবং নিচের সড়কে চলাচলকারী যানবাহনকে অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
পরবর্তী দুদিনও বৃষ্টির আভাস
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী দুদিন ঢাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নগরবাসীকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



