বিশ্বের সবচেয়ে বাসযোগ্য শহরের তালিকা প্রকাশ করেছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ)। তাদের বার্ষিক লাইভেবিলিটি ইনডেক্সে ১৭৩টি শহরের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের তালিকায় বিশ্বের তৃতীয় সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহর হিসেবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ২০২৫ সালেও একই অবস্থানে ছিল ঢাকা।
শীর্ষে কোপেনহেগেন, দ্বিতীয় ভিয়েনা
ইআইইউ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহর ডেনমার্কের কোপেনহেগেন। টানা দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষে অবস্থান করছে শহরটি। স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামোর মতো সূচকের ভিত্তিতে পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়। কোপেনহেগেনের গড় পয়েন্ট ১০০-এর মধ্যে ৯৮। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার পয়েন্ট ৯৭।
শীর্ষ দশে সবচেয়ে বেশি শহর রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার। তৃতীয় স্থানে মেলবোর্ন, চতুর্থ স্থানে সিডনি এবং অষ্টম স্থানে অ্যাডিলেড। এশিয়া থেকে জাপানের ওসাকা ও টোকিও শীর্ষ দশে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও সুইজারল্যান্ডের দুটি এবং কানাডার একটি শহর শীর্ষ দশে রয়েছে।
ঢাকার স্কোর ও অবস্থান
চলতি বছরের জরিপে ঢাকা ১০০-এর মধ্যে ৪২ স্কোর পেয়েছে। এই স্কোর নিয়ে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৭১তম। বাসযোগ্যতার দিক থেকে ঢাকার নিচে রয়েছে কেবল যুদ্ধবিধ্বস্ত লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি এবং সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। ইআইইউ বলছে, চীনের বিভিন্ন শহরের স্বাস্থ্যসেবার মানের উন্নয়ন এবং জাপানের অগ্রগতির কারণে এশিয়ায় সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। তবে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাসহ এই অঞ্চলের অনুন্নত দেশগুলোর কিছু শহরের কম স্কোরের কারণে সামগ্রিক গড় উন্নতি ব্যাহত হচ্ছে।
ঢাকার সেক্টরভিত্তিক স্কোর
ইআইইউ’র সূচকে ঢাকার স্থিতিশীলতায় স্কোর ৪৫, স্বাস্থ্যসেবায় ৪২, সংস্কৃতি ও পরিবেশে ৪১, শিক্ষায় ৬৭ এবং অবকাঠামোতে মাত্র ২৭। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষা খাত তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকলেও অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক নগর পরিবেশের দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা ঢাকার বাসযোগ্যতাকে ক্রমাগত তলানির দিকে টেনে নামাচ্ছে।
বৈশ্বিক গড় ও এশিয়ার প্রেক্ষাপট
চলতি বছরের সূচক অনুযায়ী, বৈশ্বিক গড় বাসযোগ্যতার স্কোর ৭৬.১-এ অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতার সূচকে অবনতি ঘটেছে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে উন্নতি এবং চীনের অগ্রগতির কারণে সামগ্রিক বৈশ্বিক সূচকের পতন এড়ানো গেছে।
এশিয়ার গড় বাসযোগ্যতার স্কোর বেড়ে ৭৪ হলেও ঢাকার স্কোর তার চেয়ে ৩২ পয়েন্ট কম। ইআইইউ বলছে, এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে বড় বৈসাদৃশ্য দেখা গেছে। স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি ঘটিয়ে চীনের কয়েকটি শহরের সূচকে উন্নতি ঘটেছে। আবার সংস্কৃতি ও পরিবেশের উন্নতি করে জাপানের রাজধানী টোকিও সূচকে ওপরে উঠে গেছে। সেখানে ঢাকা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন বাসযোগ্য শহরের তালিকায় আটকে রয়েছে।
তলানির দিকের অন্যান্য শহর
তালিকার তলানির দিকে থাকা দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে পাকিস্তানের করাচি ৪৩ স্কোর নিয়ে ঢাকার ঠিক এক ধাপ ওপরে, অর্থাৎ ১৭০তম অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে কম বাসযোগ্য শহরের তালিকায় আগের মতোই তলানিতে রয়েছে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সূচকের তলানির দিকে বড় ধরনের ওলটপালট হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে ১৬৪তম স্থানে নেমে গেছে ইরানের রাজধানী তেহরান। আর ১৬৬তম স্থানে রয়েছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ।
এর আগে ইআইইউ’র ২০২৫ সালের সূচকে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকা তিন ধাপ পিছিয়ে ১৭১তম স্থানে নেমে গিয়েছিল। তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে ঢাকার অবস্থান ছিল ১৬৮তম এবং ২০২৩ সালে ছিল ১৬৬তম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক শহরের মতো কোনো যুদ্ধবিগ্রহের কারণে নয়, বরং দীর্ঘস্থায়ী কাঠামোগত দুর্বলতাই ঢাকার এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী।



