ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকাগামী একটি মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের পর মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে।
ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
হতাহতের তালিকা
নিহতরা হলেন- মাইক্রোবাসের চালক মো. জাহাঙ্গীর (৪৫), যাত্রী সালমা বেগম (৩৫) ও তার শিশুপুত্র আরাফাত (৪)। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোবাসের আরও দুই যাত্রী ও বাসের তিন আরোহী। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আইনী প্রক্রিয়া
ঘটনার পর বাসচালক পলাতক রয়েছেন। শ্রীনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের ধারণা, বেপরোয়া গতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, 'ঘটনাস্থল থেকে বাস ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সম্প্রতি এক্সপ্রেসওয়েতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই চালকদের বেপরোয়া গতি ও ট্রাফিক আইন না মানার কারণে ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত গতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এক্সপ্রেসওয়েতে স্পিড ব্রেকার ও সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডের অভাব রয়েছে।



